মাইক্রোসফটের প্রথম পিসি অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে মাইক্রোসফট ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম বা সংক্ষেপে এমএস-ডস প্রযুক্তিবিশ্বে একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে রেখেছে। মূলত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের আগমনেই এমএস-ডস বিদায় নেয় প্রযুক্তিবিশ্ব থেকে।
তবে দীর্ঘ বিরতির পর হলেও আজকের এই স্মার্টফোনের যুগে ডস অপারেটিং সিস্টেমকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার একটি চেষ্টা করেছে মাইক্রোসফট। তবে পিসিতে নয়, আধুনিক সব স্মার্টফোনের জন্যই মাইক্রোসফট নিয়ে এসেছে তাদের প্রাচীনতম অপারেটিং সিস্টেমকে।
পূর্ণাঙ্গ মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে নয়, একটি অ্যাপস হিসেবেই এটি যুক্ত হয়েছে উইন্ডোজ ফোন স্টোরে। মার্চের শেষ সপ্তাহে এটি উইন্ডোজের অ্যাপস্টোরে যুক্ত হলেও এপ্রিলের প্রথম দিনে এর খবর ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তাতে করে অনেকেই একে শুরুতে ‘এপ্রিল ফুল’ হিসেবেই মনে করেছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত সত্যি সত্যিই উইন্ডোজের অ্যাপস্টোরে যুক্ত হয়ে গেছে এই নস্টালজিক অপারেটিং সিস্টেমের অ্যাপস। ৭ মেগাবাইটের ডস অ্যাপসটি সেই চিরচেনা এমএস-ডস অপারেটিং সিস্টেমের মতো কমান্ড প্রম্পটের মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে। ডিরেক্টরি লিস্টেও ঢুকতে হবে আগের মতো করেই। নেভিগেট করে প্রোগ্রাম ফোল্ডারে ঢুকতে পারলে এখান থেকে ক্যামেরার অ্যাপসটি পাওয়া যাবে।
আর এই ক্যামেরার মাধ্যমেও তোলা যাবে সেলফি। এটি অবশ্য সাধারণ সেলফি হবে না; এই সেলফিটি হবে আসকি বা সিজিএ ধরনের। সেই প্রথম যুগের গেমের মতো রক পেপার সিজর গেমও রয়েছে এই অ্যাপসেই। কমান্ড প্রম্পটে COLOR লিখে নির্বাচন করা যাবে এর ইন্টারফেসের রঙ। এমএস-ডসের সংস্করণ দেখতে লিখতে হবে VER। আর WIN লিখলেই উইন্ডোজ ৩.১ ইন্টারফেসে চলে যাবে এটি। কমান্ড লাইনে HELP লিখলেই অবশ্য সব কমান্ড পেয়ে যাবেন তালিকা আকারে।
এই প্রজেক্টের প্রধান ড্যানিয়েল গ্লাস বলেন, ‘এখনকার চাকচিক্যের এই যুগে এসে এমএস-ডস অ্যাপসের ডিজাইন করতে গিয়ে আমরা সুযোগ পেয়েছি পেছনে ফিরে তাকানোর। সত্যিই এটি একটি অসাধারণ অনুভূতি। আশা করি পুরোনো যুগের পিসি ব্যবহারকারীদেরও এটি নস্টালজিক করে তুলবে।’ মাইক্রোসফট আশা করছে, উইন্ডোজ ফোন ব্যবহারকারীরা খুব আগ্রহ নিয়েই ডস অ্যাপসটি ব্যবহার করবে।
