সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
রবিবার আগামী অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর সঞ্চয়পত্রের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, আমাদের সঞ্চয়পত্রগুলোতে সুদের হার খুবই বেশি। এভাবে চলতে থাকলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়ার ফলে সরকারের ভবিষ্যৎ ঋণের বোঝা বেড়ে যাবে। সে কারণেই এই সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।
কবে থেকে এবং কী পরিমাণে সুদের হার কমানো হবে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি অর্থমন্ত্রী।
প্রাক বাজেট আলোচনায় আহসান মনসুর অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা জানান, সুদের হার বেশি হওয়ায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ নেওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল আট মাসেই (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তার দ্বিগুণেরও বেশি ঋণ নেওয়া হয়ে গেছে। এমনটা হতে থাকলে সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা সমস্যার মধ্যে পড়বে'।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'সঞ্চয়পত্রের বেশি সুদ আর থাকবে না'।
ব্যাংকের তুলনায় বেশি সুদের আশায় অনেকেই সঞ্চয়পত্র কেনা দিকে দিকে ঝুঁকেছেন। সম্প্রতি ব্যাংকের সুদ হার আরও কমে যাওয়ায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি ব্যাপকহারে বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) মোট ২৬ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এই সময়ে আগে কেনা সঞ্চয়পত্রের আসল-সুদ বাবদ ৮ হাজার ২৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার।
ফলে সঞ্চয়কারীদের নিট বিনিয়োগ অর্থাৎ সরকারের এ খাতে ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০০ শতাংশ বেশি।
