সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান যারা আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ধরে রেখেছেন তাদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘যারা বেআইনিভাবে টাকা ধরে রেখেছে তারা স্ট্রেট জেলে যাবে’। বিভিন্ন স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে সরকারের পাওনা রয়েছে এমন অভিযোগ করা হলে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সংস্থায় চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ার পর তারা অনেকেই নিজেদের মতো করে প্রতিষ্ঠান চালান। তারা আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন। যারা বেআইনী ভাবে সরকারের অর্থ ধরে রেখেছেন তাদের শাস্তি হওয়া উচিত, জেল দেয় উচিত। এভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর টাকা ধরে রাখাটা এবার বন্ধ করা হবে।
রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী (২০১৫-১৬) অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নকে সামনে রেখে ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে এ আলোচনার আয়োজন করেন অর্থমন্ত্রী। আলোচনায় একজন অর্থনীতিবিদ অভিযোগ করেন সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে সরকারের অনেক পাওনা রয়েছে। যেমন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি বড় অংকের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছে না। এধরনের বক্তব্যের বিপরীতে অর্থমন্ত্রী উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (পিআরআই), ‘ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপ’ (ইআরজি), ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ (বিআইডিএস) ও ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্যরা।
বাজেট বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামি বাজেটের আকার হতে পারে ৩ লাখ কোটি টাকার মতো। এবারের বাজেটে বিদ্যুত্ খাতে প্রাধ্যন্য দেয়া হবে। সেইসাথে অগ্রাধিকার দেয়া হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অককাঠামোকে। বাজেট বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের চলতি বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ছিলোনা। যেটি ছিলো তা হলো জরিমানা, এটি আগেও ছিলো।
ব্যাংক সুদের হার অনেক বেশি স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা ব্যাংক চালান তাদের অন্য স্থানেও বিনিয়োগ রয়েছে, তারাও উদ্যোক্তা। তাদেরই সুদ হার কমাতে ভূমিকা রাখতে হবে।
এসময় চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, হরতাল অবরোধে আমরা যেরকমটি ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা করেছিলাম সেটি হয়নি। ক্ষয়-ক্ষতির হিসেব অনেকেই করছে, আমরাও করছি। তবে আশংকার চেযেও ক্ষতির পরিমান কম হয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী।
