জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি যত্রতত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়। মহান নেতার ছবি যেনতেনভাবে প্রচার কাজে কিংবা নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ হাসিলে ছাপিয়ে ব্যানার পোস্টার, লিফলেট, ফেস্টুনাকারে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার না করে তাঁকে অমর্যাদা করা হচ্ছে। জাতির পিতার ছবি অমর্যাদা করা মানে জাতির পিতাকে অমর্যাদা করা। অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা সংগঠন তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও জাতীয় অনুষ্ঠানাদি ও অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে জাতির পিতার ছবি ব্যবহূত হয়ে থাকে, যা যত্নসহকারে সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ করার ফলে জাতির পিতার সম্মান সমুন্নত থাকে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ছবি হেলাফেলাভাবে ব্যবহার করে মর্যাদার স্থলে অমর্যাদাই করা হয়, যা আদৌ কাম্য নয়। নিজের বা নিজেদের কোনো নির্বাচনী প্রচার কাজে নিম্নমানের ছাপা দিয়ে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহারে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয় না। ফলে সেই ছবি মাটিতে পড়ে থাকে। ধুলায় লুটায়। এমনকি পরিত্যক্ত অবস্থায় রাস্তায় যেখানে সেখানে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা পথচারীর অবচেতনে পায়ের তলায় পদদলিত হয়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও গর্হিত কাজ বলে আমি মনে করি।
যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে কিংবা ছবিতে বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে ফুল বা ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই সে ছবির অবহেলা অযত্ন ও অসচেতনতার কারণে ধুলায় লুটিয়ে পদদলিত হবে—এমনটা মেনে নেওয়া যায় না। বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করতে হলে প্রথমে বঙ্গবন্ধুকে হূদয়ের মণিকোঠায় স্থান দিতে হবে তারপর তাঁর ছবি ব্যবহার করতে হবে। তাতেই কেবল তাঁর মর্যাদা বলবত্ থাকবে অন্যথায় নয়। সস্তা কাগজে অস্পষ্টভাবে ছেপে নির্বাচনী কাজে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করে নিজে বা নিজেরা মর্যাদার আসনে বসবেন আর বঙ্গবন্ধুর ছবির সেই লিফলেট ধুলায় লুটাবে এবং পদদলিত হয়ে অমর্যাদা করা হবে এমন দৃশ্য বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহারকারীর হূদয় ছুঁয়ে যেতে না পারে, কিন্তু অগণিত বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক বা অনুরাগীর হূদয় ভাঙে। কষ্ট পায়। আর এ কষ্ট দেওয়ার অধিকার কারো নাই এবং রাখা উচিত না। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করা যেতে পারে। যারা আইনের রক্ষক এমনকি আইন দিয়ে ন্যায়-অন্যায়কে বিচার করে থাকেন—এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দ্বারা অন্তত বঙ্গবন্ধুর ছবি তাদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে অপদস্ত হবে তা মেনে নিতে পারি না।
আসন্ন ঢাকা জজ কোর্ট আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনী প্রচারণার কাজে বঙ্গবন্ধুর ছবি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে লিফলেটাকারে তৈরি করে বিলি-বণ্টনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত ইশতেহার লিফলেট কেবল মাটিতে পড়ে পদদলিতই হচ্ছে না, পরিত্যক্ত অবস্থায়ও পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এসব লিফলেট ঝাড়ুপোছেও পরিষ্কার করতে দেখেছি—যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হূদয়বিদারক। বঙ্গবন্ধুর ছবি প্রচার কাজে ব্যবহার হবে—ভালো কথা। কিন্তু ব্যবহারের নামে বেপরোয়া যা দায়িত্বহীন হওয়া ভালো নয়। আশা করি সামনের দিনগুলোতে যে কেউ প্রচার কাজে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহারে দায়িত্বশীল হবেন, তাহলে বঙ্গবন্ধুর ছবির মর্যাদা রক্ষা পাবে এবং জাতির ভাবমূর্তিও সমুন্নত থাকবে।
শরিয়তপুর
