৭ খুনের মামলার চার্জশিট বৃহস্পতিবার

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৫, ১৬:৫২
 
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুনের মামলার চার্জশিট আগামী বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন। এ চার্জশিট দাখিলের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এ মামলা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাসহ সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে বলে তিনি মনে করেন।
 
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় র্যাব কর্মকর্তাসহ মোট আসামি ৩৫ জন। চার্জশিটে র্যাব-১১ এর সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, সিও লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্প ইনচার্জ কমান্ডার (অব.) এমএম রানা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনের নাম রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নূর হোসেনকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে নানা চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য চার্জশিট প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ জানান।
 
কর্মকর্তারা বলেন, এ মামলার তদন্ত প্রায় ৪ মাস পূর্বে শেষ হয়েছে। চার্জশিট বিলম্বে দেয়ার অন্য কোন কারণ নেই। নূর হোসেনকে না পাওয়া গেলেও চার্জশিট প্রদানে কোন সমস্যা হবে না। কারণ এ মামলার আসামিদের মধ্যে ১৯ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। নূর হোসেনের সহযোগীরাও সবকিছু বলে দিয়েছে। আর যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা তো আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে পুরো পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ডের কথা অকপটে স্বীকার করেছে।
 
তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে, চার্জশিটে বলা হয়েছে: নূর হোসেন হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে বিষয়টি নিয়ে মেজর আরিফের সঙ্গে আলোচনা করেন। আরিফ বিষয়টি তারেক সাঈদ ও রানাকে অবহিত করেন। নূর হোসেনের সঙ্গে যে আর্থিক লেনদেন হয়েছে তা-ও আরিফের মাধ্যমে। এর বড় একটি অংশ আরিফ একাই মেরে দিয়েছেন। নূর হোসেনকে পাওয়া গেলে সেই অর্থের পরিমাণও জানা যেত। তবে ফ্ল্যাট কেনাসহ বিভিন্ন সময় নূর হোসেনের কাছ থেকে আরিফ যে টাকা নিয়েছেন তার প্রমাণ তদন্তে মিলেছে। চার্জশিটেও লেনদেনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো কিলিং মিশনের নেতৃত্বে ছিলেন আরিফ। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে আরিফ স্বীকারও করেছেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুলকে হত্যার পর নূর হোসেনকেও গুম করে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
 
আলোচিত এই হত্যাকান্ডের দুটি মামলায় এ পর্যন্ত ২০ জন র্যাব সদস্যসহ ৩০ জন গ্রেফতার হয়েছেন। আদালতে ১৬৪ ধারায় ১৭ জন র্যাব সদস্যসহ ১৯ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের মধ্যে র্যাবের ওই ৩ কর্মকর্তাও রয়েছেন। এছাড়া ১৪ জন র্যাব সদস্যসহ ১৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।  গত বছরের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাত জন অপহূত হন। ৩০ এপ্রিল তাদের লাশ  শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।