নাটোরের সিংড়া উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের খরসতি ইতিমধ্যে করলার গ্রাম হিসেবে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মণ করলা এখান থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। অথচ বাম্পার ফলন হলেও উত্পাদিত করলার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এ বছর করলা আবাদে উত্পাদিত ফসলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪০ মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।
করলা চাষি সুমন আলী, বাবু সরদার, শফিকুল জানান, এ গ্রামের শতভাগ মানুষ সবজি চাষ করে। পরিচর্যা ও কীটনাশকসহ এক বিঘা জমিতে করলা আবাদ করতে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো মানের করলা হলে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকার কারণে অর্ধেক দামে পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে করলা বিক্রি করতে হয়। অনেক সময় পাইকারী ব্যবসায়ীরা না আসায় ক্ষেতের করলা ক্ষেতেই পচে নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় গ্রামের সবজি পাইকারী ব্যবসায়ী মোতালেব জানায়, এখানকার কৃষকদের বাজার ব্যবস্থাপনা বলতে একমাত্র স্থানীয় ঈদগাহ। সকাল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠেই চলে বেচা-কেনা।
বগুড়া থেকে আগত পাইকারী ব্যবসায়ী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ার কারণে অনেক পাইকারী ব্যবসায়ীরা এখানে আসতে চায় না। যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে মণ প্রতি দেড় থেকে দুইশ’ টাকা কম দামে কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য কিনতে হয়। মাত্র তিন কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ হলে এখানেও অত্যাধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. কুদ্দুস বলেন, গ্রামের প্রায় সবাই সবজি আবাদের সাথে জড়িত। কিন্তু সিংড়া উপজেলা সদর থেকে ১৩ কিমি. অদূরে এ গ্রামে আসতে যানবাহন ভয় পায়। রাস্তার বেহাল দশার কারণে কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না।
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কৃষকরা যেন তাদের উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় সেই লক্ষ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।
