ব্যাংকের চেয়ে হাতেই টাকা বেশি প্রার্থীদের

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৫, ২২:১১
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের সিংহভাগেরই ব্যাংকে তেমন টাকা নেই। ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের চেয়ে প্রার্থীদের হাতে নগদ টাকাই বেশি। মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৪৭ জনের মধ্যে ৩০ জনের নামে ব্যাংকে জমাকৃত টাকার পরিমাণ নগদ টাকার চেয়ে কম। এর মধ্যে ১৫ জনের ব্যাংকে কোনো টাকাই নেই। এছাড়া তিন জনের কাছে নগদ কিংবা ব্যাংকে জমা কোনো টাকা নেই।
 
আবার দুই সিটিতে অপেক্ষাকৃত বেশি পরিচিত বা হেভিওয়েট প্রার্থীদের সকলেরই ব্যাংক হিসাবে নিজেদের চেয়ে তাদের স্ত্রীদের বেশি টাকা জমা রয়েছে। অধিকাংশ প্রার্থীর নামে নগদ টাকা এবং তাদের স্ত্রীদের নামে ব্যাংকে বেশি টাকা রয়েছে। তবে ২৪ জনের নিজের কিংবা স্ত্রীর নামে ব্যাংকে কোনো টাকা নেই।
 
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থীদের দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। হলফনামায় ২৮ মার্চ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত এ তথ্য প্রার্থীরা নিজেরাই দিয়েছেন।
 
ঢাকা উত্তরে এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হকের নামে নগদ এক কোটি ৯৫ লাখ ১৩ হাজার ৩০ টাকা ও ব্যাংকে রয়েছে ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৯ টাকা। তার স্ত্রীর নামে নগদ ৩৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৮ টাকা ও ব্যাংকে ২৮ লাখ ২৪ হাজার ৮২১ টাকা আছে।
 
মনোনয়ন বাতিলকৃত প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৬৮ লাখ ৮৯ হাজার ২৬৩ টাকা, নগদ রয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার ৩৩ টাকা। তার স্ত্রীর নামে নগদ ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৭৪৩ টাকা ও ব্যাংকে রয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৬২ হাজার ৯৪২ টাকা।
 
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতা আবদুল্লাহ আল কাফীর নগদ ৫৫ হাজার ও ব্যাংকে ৩২ হাজার ৬৬৮ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ২ লাখ ৫০ হাজার ও নগদ ১৫ হাজার টাকা আছে। মো. আনিসুজ্জামান খোকনের নগদ এক লাখ ৩ হাজার ও ব্যাংকে ৫০ হাজার টাকা। স্ত্রীর ব্যাংকে রয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার।
 
জাসদ নেতা ও অভিনেতা নাদের চৌধুরীর নগদ আছে ১৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫৭৩ টাকা। তার স্ত্রীর নামে ১০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা রয়েছে। ব্যাংকে তাদের নামে টাকা জমা নেই। জামান ভূঞার নামে নগদ ৫ লাখ টাকা ও ব্যাংকে ২ হাজার টাকা আছে।
 
অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র পরিচালক সারাহ্ বেগম কবরীর ব্যাংকে রয়েছে ৭২ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫ টাকা ও নগদ আছে ২ লাখ টাকা। হলফনামায় স্বামীর নামে নগদ ও ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের ব্যাপারে তিনি ‘প্রযোজ্য নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। সাবেক আমেরিকা প্রবাসী, কবি ও সাহিত্যিক মো. শামছুল আলম চৌধুরীর ব্যাংকে টাকা নেই। তবে তার কাছে নগদ এক কোটি টাকা ও তার স্ত্রীর কাছে ৫২ লাখ টাকা আছে।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ সাইদ খোকনের নামে নগদ এক কোটি এক লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৮ টাকা রয়েছে ও ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৪৩ হাজার ৪৭৬ টাকা। তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ২৭ লাখ ২২ হাজার ৩০৬ টাকা ও নগদ ৩০ লাখ টাকা রয়েছে।
 
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদের নগদ ৫০ লাখ এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ১০ লাখ ৬২ হাজার ১২৩ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ৩২ লাখ ৯৪ হাজার ৯৫ ও নগদ ১ লাখ ৬৮৮ টাকা। বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান রিপনের নামে নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ব্যাংকে জমা ৩ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ১২ লাখ ও নগদ ৮ লাখ টাকা আছে।
বিএনপি নেতা মো. আব্দুস সালামের নামে নগদ ৩২ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৮ টাকা ও ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ১২১ টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে নগদ কিংবা ব্যাংকে কোনো টাকা নেই।
 
বিএনপি’র আরেক নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবুল বাশারের নগদ ২৯ লাখ ২৯ হাজার ৮২০ টাকা ও ব্যাংকে ৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা আছে। স্ত্রীর নামে নগদ ৩০ লাখ টাকা আছে। ব্যাংকে মো. গোলাম মাওলা রনির ৬৫ হাজার টাকা থাকলেও নগদ টাকা নেই। ব্যবসায়ী মো. শহীদুল ইসলামের নগদ ৪৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬৭ টাকা ও ব্যাংকে ৫৮ লাখ ৩ হাজার ৬৪১ টাকা আছে।
 
ঠিকাদার মোহাম্মদ শফি উল্লাহ চৌধুরীর ব্যাংকে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৮ টাকা ও নগদ ৬০ হাজার টাকা আছে। মনোনয়নপত্র বাতিলকৃত প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুর নামে নগদ ৫ কোটি ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৩২২ টাকা আছে। ব্যাংকে কোনো টাকা নেই। তার স্ত্রীরও ব্যাংকে কিংবা নগদ টাকা নেই। জাতীয় পার্টির নেতা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন মিলনের নিজের কিংবা স্ত্রীর নামে ব্যাংকে কোনো টাকা নেই। তবে তার কাছে নগদ এক লাখ ৩৫ হাজার ৯৩২ টাকা আছে।
 
মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিনের কাছে নগদ ৬ লাখ ও ব্যাংকে ৪ লাখ টাকা রয়েছে। আবদুর রহমানের কাছে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থাকলেও ব্যাংকে টাকা নেই।
ঢাকা উত্তরের প্রার্থী ডেটকো প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক ও আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের ছেলে ববি হাজ্জাজের নামে ৬৯ হাজার ৬২৫ টাকা ব্যাংকে ও ৬০ হাজার টাকা নগদ রয়েছে। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ২ লাখ ৪ হাজার ১০২ ও নগদ ৪৫ হাজার টাকা।
 
সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নিজ নামে নগদ ও ব্যাংকে এক লাখ করে টাকা রয়েছে। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ২ লাখ ও নগদ ৫০ হাজার টাকা। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা চৌধুরী তানবীর আহম্মেদ সিদ্দিকীর ছেলে চৌধুরী ইরাদ আহম্মেদ সিদ্দিকীর ব্যাংকে ২৫ হাজার ও নগদ ২৫ হাজার টাকা রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে নগদ ও ব্যাংকে অর্থের বিষয়ে হলফনামায় উল্লেখ নেই।
 
আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়ালের ব্যাংকে রয়েছে ৩৪ লাখ ২৮ হাজার ৩৩১ টাকা ও নগদ ৩৪ লাখ ২৮ হাজার ৩৩১ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রয়েছে ২৭ লাখ ১১ হাজার ৩০৬ টাকা। জনসংহতি নেতা ও ব্যবসায়ী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির ব্যাংকে ১ লাখ ২০ হাজার ৫০২ টাকা ও নগদ ৭৫ হাজার টাকা আছে।
 
তিন প্রার্থীর নগদ ও ব্যাংকে টাকা নেই!
 
ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থী দিলিপ ভদ্র ও এসএম আকরাম এবং উত্তরের প্রার্থী মোস্তফা কামালের নামে নগদ কিংবা ব্যাংকে জমা কোনো টাকা নেই।