বেশি গ্রাহককে ঋণ দেয়ার নির্দেশ রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকগুলোকে

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৫, ১৯:৪১
খেলাপী ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, কমপ্লায়েন্স পরিপালন, বাৎসরিক আর্থিক প্রতিবেদন সময়মতো প্রকাশ ও মূলধনশক্ত অবস্থানে রাখাসহ সার্বিক বিবেচনায় রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকগুলোর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব ব্যাংকের দুর্বল বিষয়গুলোর সমাধান করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছে ব্যাংকিং খাতের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তনে উন্নয়নমূলক কৃষি, এসএমই ও ছোট উদ্যোক্তাদের বেশি ঋণ দিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার কথা বলা হয়।
 
সোমবার রাষ্ট্রয়াত্ব সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী এ চার ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চার রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররা উপস্থিত ছিলেন।
 
বৈঠক শেষে ডেপুটি গভর্নর এস কে সূর চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকের পরিস্থিতি এখনও এমন পর্যায়ে আসেনি যাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা যায়। তাদের অনেক ক্ষেত্রেই দুর্বলতা রয়েছে যা সমাধান করতে বলা হয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে কয়েকটি ব্যাংক ভাল করেছে। ভাল বিষয়গুলো ধরে রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা এখনও সন্তুষ্টজনক পর্যায়ে আসতে পারেনি তাদেরকে শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী সব শর্ত পরিপালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
 
জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর মধ্যে যারা এখনও তাদের বেঁধে দেয়া নির্ধারিত ঋণ বিতরণের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি তাদেরকে বছরের বাকি তিন মাসের মধ্যে তা পূরণের জন্য বৈঠকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যতিক্রম হলে তাদেরকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে লক্ষ্যপূরণ করতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের দিকে না ঝোঁকারও নির্দেশ দেয়া হয়। 
 
ব্যাংকগুলোকে  কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, নিয়ম নীতি ভেঙে বড় কর্পোরেট বা ব্যক্তি বিশেষে ঋণ না দিয়ে উন্নয়নমূলক কৃষি, এসএমই ও ছোট উদ্যোক্তাদের বেশি ঋণ দিতে বলা হয়েছে। যাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়। ব্যাংকিং খাতে আর কোন জালিয়াতি দেখতে চায়না বলে রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকগুলোকে পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 
একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর দেয়া কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদনে যেসব কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ভুয়া তথ্য দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর ২০১৪ সালের ব্যালেন্সশিট কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উপস্থাপনের বিষয়েও সতর্ক করা হয়। অধিকাংশ রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকই তাদের ব্যালেন্সশিট উপস্থাপন করতে পারেনি। ফলে ব্যাংক কোম্পানির নিয়ম অনুসারে চলতি এপ্রিল মাসের মধ্যে ওই ব্যালেন্সশিট উপস্থাপন করতে হবে তাদের। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো- বছর শেষ হলে পরবর্তী দুইমাস অর্থাৎ জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালেন্সশিট জমা দিতে হয়। এ সময় ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ দুইমাস সময় পায় তারা।