অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন বিমান বাংলাদেশের অনেক উন্নতি সাধিত হয়েছে। বিমানের বহরে নতুন নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ভালো সেবা পাওয়া যাবে।
তিনি সোমবার বিকালে বিমান বাংলাদেশের সিলেট-ঢাকা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের উদ্বোধনী অনুষ্টানে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, সারাদেশে বিমানের ৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হয়েছে।
খুব শীঘ্রই সিলেট-লন্ডন কার্গো সার্ভিস চালু হবে। তিনি বলেন, ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সারা দেশে ১০ লাখ পর্যটক টানার টার্গেট সরকারের রয়েছে। এক্ষেত্রে সিলেট সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান প্রমুখ।
বিমানের গ্রাউন্ড সার্ভিস কর্মকর্তা আজিজ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিমানের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক সোয়েব আহমদ নিজাম।
উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দিন প্রমুখ।
বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে ডি-৮ বিজি-৪০৩ ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইটটি
বেলা দেড়টার দিকে সিলেটে পৌঁছার কথা থাকলেও বিলম্বে এসে অবতরণ করে। অতিথিরা কেক কেটে ও ফিতা কেটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন।
এদিকে তিন বছর পর সিলেট-ঢাকা রুটে আবার আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হওয়ার সংবাদে সিলেটবাসী আনন্দিত হয়েছেন। এয়ারলাইন্স ক্লাব অব সিলেট-এর সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সিলেটে বিমানের ফ্লাইটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি বলেন দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীন ফ্লাইট চালু না থাকায় এ অঞ্চলের বাসিন্দরা দারুণ দুর্ভোগে পড়েন। আশা করা যায় এবার দুর্ভোগ লাঘব হবে।
বিমান সূত্র জানায় এয়ারক্রাফট না থাকায় ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে হজ্ব মওসুমে সিলেট-ঢাকা অভ্যন্তরীন ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে সিলেট থেকে কেবল ট্রানজিট ফ্লাইট অপারেট হচ্ছে। সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে বর্তমানে লন্ডন, জেদ্দা ও দুবাই থেকে ট্রানজিট ফ্লাইট আসছে।
সূত্র মতে বর্তমানে সিলেট-ঢাকা রুটে বেসরকারি চারটি ফ্লাইট নিয়মিত চলাচল করছে। এর মধ্যে-নভো এয়ারের দুটি এবং ইউএস বাংলা ও ইউনাইটেড এয়ারের একটি করে ফ্লাইট অপারেট হচ্ছে।
এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ আটাব-এ সিলেট অঞ্চল সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল জানিয়েছিলেন ,সিলেট অঞ্চলের যাত্রী নিয়েই বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখনো বিমানের যাত্রীদের শতকরা ৮০ ভাগ সিলেট অঞ্চলের। আটাব-সিলেট অঞ্চলের সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক বেলাল জানান ৭৬ সালে সিলেট থেকে নিয়মিত চারটি অভ্যন্তরীন ফ্লাইট অপারেট হতো।
তিনি জানান, আগে এখানকার যাত্রীরা সকালের ফ্লাইটে ঢাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ কর্ম সেরে বিকালের ফ্লাইটে সিলেট ফিরে আসতেন।
