সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৫, ০২:৩৯

মানবতা বিরোধী অপরাধে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ফাঁসি বহাল থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতের তরফ থেকে দুই দিনের টানা হরতাল ডাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন থাকছে। প্রস্তুত থাকছে র্যাবের হেলিকপ্টারও। আদালতের রায়ের পর থেকেই জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত জেলাগুলোতে কর্ডন পদ্ধতিতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে।

এদিকে, যুদ্ধাপরাধ মামলার সংশ্লিষ্ট বিচারক, আইনজীবী, সাক্ষী, প্রসিকিউটর এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ব্যক্তির নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্ব বিবেচনা করেও অনেক জায়গায় বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা থাকছে। যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। কারাগারের চারদিকে অন্তত ৫০টি উঁচু ভবনের ছাদে বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। কারাগারের চারদিকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল কারাগারের আশপাশের রাস্তাগুলোতে বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। প্রতিটির রাস্তার মোড়ে বাড়তি চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চলতে থাকে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও বস্তুতে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দফায় দফায় তল্লাশি চালানো হয়। অযাচিত ব্যক্তি ও যানবাহন ওই এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখার প্রতিবাদে ডাকা হরতালে জামায়াত-শিবির তাদের প্রভাব থাকা জেলাগুলোতে আবারও তাণ্ডব চালাতে পারে। এজন্য রায় বহাল রাখার ঘোষণার পর পরই যশোর, সাতক্ষীরা, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, কক্সবাজার, শেরপুর, চট্টগ্রাম, পাবনা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, ব্রা??হ্মবাড়িয়াসহ আরো কিছু জেলায় ব্লক রেইড পদ্ধতিতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে।