নদীর বুকে ভাসমান হাট

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৫, ০৩:১৯

পিরোজপুরের কাউখালী বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সন্ধ্যা নদী। সেখানে গড়ে ওঠা ভাসমান হাট দিনে দিনে জমে উঠছে। মূলত মৌসুমী পণ্যের এই হাট বসে সপ্তাহের সোম ও শুক্রবার। এখন সেখানে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। অন্যান্য সময়ে বিক্রি হয় আমনের চারা, ফুলের চারাসহ বিভিন্ন মৌসুমী পণ্য।

গতকাল সোমবার হাটে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে ভেড়ানো নৌকায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা জাতের ছোট-বড় তরমুজ। সেখান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী নানা আকারের তরমুজ কিনে বাড়ি ফিরছেন ক্রেতারা।
মৌসুমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কাউখালী ছাড়াও ভোলা, পটুয়াখালী, গলাচিপা, কলাপাড়া থেকে তরমুজ কিনে কাউখালীর এই হাটে বিক্রি করেন। তবে অভিযোগ পাওয়া গেছে, কিছু ব্যবসায়ী খাওয়ার উপযোগী নয় এমন তরমুজ ক্ষেত থেকে কিনে এনে বিশেষ ব্যবস্থায় পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন। এই বিশেষ ব্যবস্থাটি কি-সে সম্পর্কে পরিষ্কার কোন ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে এভাবে পাকানো তরমুজের স্বাদ ভাল নয়, মিষ্টি নয়।
চৈত্রের গরমে সতেজতা ফিরিয়ে আনতে তরমুজের জুড়ি নেই। প্রচণ্ড তাপদাহে পুড়ে ঘরে ফেরার পর এক টুকরো তরমুজ মনে-প্রাণে প্রশান্তি এনে দেয়। বোধকরি সেই কারণেই চাহিদা বেশি, বাজার চড়া। ছোট ও মাঝারি সাইজের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে দেড়শ’ থেকে ২শ’ টাকা দরে। দাম বেশি হলেও কিনছেন ক্রেতারা। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে তরমুজের দাম। তারা অপেক্ষায় আছেন, দাম একটু কমলে খাবেন।
তরমুজ বিক্রি করে কৃষক ও বিক্রেতারা এখন পর্যন্ত লাভবান হচ্ছেন এমন তথ্যই পাওয়া গেল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ক্ষেত থেকে এখন তরমুজ কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। স্বাভাবিকভাবে বিক্রিও হচ্ছে বেশি দামে। তবে তারা ভরসা দিয়েছেন কিছুদিনের মধ্যেই দাম কমে যাবে। সুতরাং নিম্নবিত্তদের আশাহত হওয়ার কোন কারণ নেই। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার বলেছেন, এবার কাউখালীতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি তরমুজ চাষ হয়। ফলনও হয়েছে ভাল।

তরমুজ কিনতে আসা গৃহবধূ জাহানারা বেগম বললেন, বাড়িতে সবাই তরমুজ পছন্দ করেন। সেজন্য দাম একটু বেশি হলেও কিনছেন। একই কথা বললেন ক্রেতা শাহাজামাল। কাউখালী উত্তর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আঃ লতিফ খসরু বলেন, পাঁচ-সাত বছর আগে তরমুজ ব্যবসায়ীরা হাটের দিন তরমুজ বিক্রির জন্য আসতেন। পরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তারা নৌকা বা ট্রলারে করে নদীতে ভাসমান হাট বসিয়ে তরমুজ বিক্রি শুরু করেন। প্রতি বছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত তরমুজের ব্যাপক চাহিদা থাকে। এসময় দেশের বিভিন্ন স্থানে এই হাট থেকে তরমুজের সরবরাহ যায়।