রাঙ্গামাটিতে বৈসাবী উত্সব ও মেলা শুরু হচ্ছে কাল

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৪৩
 
আদিবাসীদের বৃহত্তর ধর্মীয় উত্সব বৈসাবী ও বাংলা বর্ষবরণকে ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করার প্রস্তুতি। রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট প্রাঙ্গণে ৮ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী ১৪তম পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী সংস্কৃতি মেলার আয়োজন করেছে জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিল (জাক)।
 
অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ১০ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ৯টায় রাঙ্গামাটি পৌরসভা চত্বরে বৈসাবী উত্সবের উদ্বোধন ও র্যালি। এর উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।
 
পার্বত্য চট্টগ্রামের উত্সব প্রিয় আদিবাসীরা সারা বছর মেতে থাকেন নানান অনুষ্ঠানে। তবে তার সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। চাকমারা বিজু, ত্রিপুরা বৈসুক এবং মারমারা সংগ্রাই নামে আলাদাভাবে পালন করে এই উত্সব। তবে সমতলের মানুষের কাছে এই উত্সব বৈসাবী নামে পরিচিত।
 
বৈসাবীকে কেন্দ্র করে তিনদিন ধরে উত্সব করার কথা থাকলেও তা চলবে সপ্তাহ ধরে। উত্সবের তৃতীয় দিনে চাকমা, ত্রিপুরারা গোজ্জাই পোজ্জা পালন করলেও ঐদিন মারমা সম্প্রদায় উদযাপন করে ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা উত্সব। মারমাদের পানি খেলা উত্সবের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাহাড়ের বৈসাবী উত্সব।
 
রাঙ্গামাটি কাপ্তাই হ্রদে শুক্রবার ঐতিহ্যবাহী পোশাকে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে শুরু হবে উত্সবের আনুষ্ঠানিকতা। উত্সবের প্রথম দিনে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমারা বন থেকে ফুল আর নিমপাতা সংগ্রহ করে সেই ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলে নিজেদের ঘর। এই উত্সবের দিনকে বলা হয় ফুল বিজু। আর উত্সবের পরের দিন ঘরে ঘরে রান্না হয় ঐতিহ্যবাহী খাবার পাচন। তা দিয়ে দিন ভর চলে অতিথি আপ্যায়ন। একে বলে মূল বিজু।
 
বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, সাইক্রান, বিহু উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার জানিয়েছেন, ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ ঐতিহ্যের ধারক-বাহক আদিবাসী জুম্মদের উত্সব উদযাপিত হবে।
 
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে প্রতিবারের ন্যায় এবারও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি। এছাড়া বৈসাবী ও বাংলা নববর্ষকে বরণ উপলক্ষে রাঙ্গামাটির স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি। বাংলা বর্ষবরণ ও বৈসাবীকে বরণ করতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুতি পাহাড়ের মানুষ।