সুনামগঞ্জের দু’টি হাওরের বোরো ফসলকে পাহাড়ি ঢল থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে ২২০ মিটার দীর্ঘ রাবার ড্যাম।
ড্যামটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে আগামী মৌসুমে মনাই নদীর ভাটিতে অবস্থিত আঙ্গারুলি ও খরচার হাওরের সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করর্পোরেশন জানায়, ১৫ জানুয়ারি ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মিছাখালি রাবার ড্যামের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়।
বিএডিসি’র সুনামগঞ্জ জোনের সহকারী প্রকৌশলী জানান, নদীর তলদেশে ফাউন্ডেশনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রকল্প মেয়াদ থাকলেও কাজের গুণগতমান ঠিক রেখে আগামী বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
বিএডিসি জানায়, বোরো ধান কাটার মৌসুমে ১২০মিটার লম্বা ও ৪মিটার উচ্চতার বিশাল আকৃতির রাবারের ব্যাগ বাতাস দিয়ে ফুলিয়ে নদীতে কৃত্রিম বাঁধ দেয়া হবে। ফসল তোলা শেষ হলে বর্ষায় বাতাস ছেড়ে দিয়ে নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে। ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এই রাবার ড্যামটি।
প্রকল্পের ঠিকাদার জানান, রাবারের বাঁধের মাধ্যমে ফসল রক্ষা বিষয়টি বাংলাদেশে এই প্রথম। তিনি বলেন, রাবার ব্যাগের ওপর ২০ বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে। পরবর্তীতে বিএডিসি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এটি রক্ষণাবেক্ষণ করবে।
স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ আহমদ জানান, রাবার ড্যাম হওয়াতে বাঁধের উজানের দু’টি গ্রাম হুমকির মুখে পড়তে পারে। পানির চাপে নদী ভাঙন দেখা দিতে পারে। এই আশঙ্কা দূর করতে উজানের দুই পাড়ের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা জরুরি বলে আমরা মনে করছি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ জানান, রাবার ড্যামের মাধ্যমে হাওরের ফসল রক্ষার বিষয়টি এখানকার কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মুক্ত করবে।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, ড্যামটি নির্মাণ হলে এখানকার কৃষকরা অনেক উপকৃত হবেন। নির্মাণ কাজের গুণগতমান ঠিক রাখতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
