কয়েকজন লোভী ও অসাধু চিংড়ি চাষি রাতের আঁঁধারে গোপনে নদী থেকে অবৈধভাবে বাঁধের নিচে বসানো পাইপ দিয়ে লবণ পানি বিলের মধ্যে প্রবেশ করানোর ফলে উপজেলার সিংগা বিলে চহেড়া মৌজার প্রায় ২শ বিঘা জমির বোরো ধান পচে গেছে। এছাড়া মরেছে রুই, কাতল, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার দুপুরে সিংগা বিলে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিলের মধ্যে সরকারি খালে নেট পাটা দিয়ে একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি চিংড়ি চাষ শুরু করে। সম্প্রতি খর্ণিয়া, শোলগাতিয়া, চহেড়া, রানাই এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তার মাটির নিচে পাইপ বসিয়ে রাতের আঁধারে নদী থেকে লবণ পানি তুলে দেয়। এতে বিলের চহেড়া মৌজার প্রায় ৭০/৮০টি সমন্বিত ধান ও মাছের ঘেরের বাঁধ চুইয়ে বোরো ধান ক্ষেতে লবণ পানি ঢুকে যায়। ফলে ধান গাছ প্রথমে শুকিয়ে পচতে শুরু করে। পরে মাছগুলোও মারা যায়।
চহেড়া মৌজার কৃষক শুভংকার বৈরাগী, রামপ্রসাদ বৈরাগী, রবীন্দ্রনাথ বৈরাগী, মিজান শেখ, তুলশী বিশ্বাস, প্রহ্লাদ বৈরাগী, কাঞ্চিলাল বিশ্বাস, নারায়ন বিশ্বাস, মকছেদ শেখ, নুরুল ইসলাম, মহাদেব বৈরাগী, গৌর গাইন, সাহাবুদ্দীন শেখ বলেন, স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ছোট ছোট ঘের তৈরি করে আমরা এই বিলে একসাথে ধান ও মাছ চাষ করে থাকি। এ বছর ধান রোপণের পর রাতের আঁধারে কিছু অসাধু চিংড়ি চাষি নদী থেকে লবণ পানি তুলে দেয়ায় আমরা সব হারিয়েছি।
খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকরাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধে বসানো অবৈধ পাইপ অপসারণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিল পানি ব্যবস্থা কমিটির সভাপতি শেখ আব্দুল হান্নান জানান, বহুবার চেষ্টা করেও চোরাই পাইপ বসানো বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তবে আবারো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। উপজেলার রুদাঘরা ও খর্ণিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জি এম আমানুল্লাহ ও দিদার হোসেন দিদার জানান, চহেড়া স্লুইস গেইটটি সম্প্রতি পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় একশ্রেণির অসাধু চিংড়ি চাষি গোপনে বাঁধের নিচে পাইপ বসিয়ে লবণ পানি তুলছে।
