মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর, আনন্দবাস, গোপাল নগরসহ অধিকাংশ গ্রামে সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ চাষ করেন চাষিরা। তবে জেলার সদর ও গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ চাষটা বেশি হয়। কিন্তু চলতি বছর সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ চাষ করে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। প্রতিকেজি পেঁয়াজ উত্পাদন করতে সাত টাকা খরচ হলেও বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র চার থেকে সাড়ে চার টাকায়।
শিবপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি আবুল কালাম জানান, তিনি এ বছর পেঁয়াজ চাষ করেছেন ১০ বিঘা জমিতে। প্রতিবিঘা জমিতে তিনি খরচ করেছেন ৫২ হাজার টাকা করে। বিঘাপ্রতি জমিতে পেঁয়াজ উত্পাদন হয়েছে ১৬০ থেকে ১৭০ মণ। এক বিঘা জমির পেঁয়াজের বর্তমান বাজার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। প্রতিবিঘায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, ভালো দাম পাওয়ার আশায় জমিতে পেঁয়াজ রেখে দিলেও তা ফেটে যাচ্ছে। ফেটে যাওয়া পেঁয়াজ বিক্রি হয় না। পেঁয়াজ করে যেভাবে এ গ্রামের উন্নতি হয়েছে। এবার সেভাবেই গ্রামের মানুষগুলো পেঁয়াজ চাষ করে ঋণগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে।
আবুল কালামের মতো রফিকুল ইসলাম, বাবুল জোয়ার্দার, হায়াত আলী, আদম আলী, আশিক গাজীসহ আরো কয়েকজন পেঁয়াজ চাষি জানান, পেঁয়াজের মৌসুমে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ না করলে দাম পাবেন না তারা। তারা জানান, গত বছর যে পেঁয়াজ মণ প্রতি ৪শ থেকে ৫শ টাকা করে বিক্রি করেছেন। সেই পেঁয়াজ এ বছর বিক্রি করতে হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা করে। গতবছরও চাষিরা লাভের মুখ দেখেছেন অথচ এবার চাষিরা আসল টাকাও ঘরে তুলতে পারবে না। তাই তারা বিপাকে পড়েছেন।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা স্বপন কুমার খাঁ বলেন, কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেয়ে পিঁয়াজ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি জানান, চাষিদের কৌশলী হতে হবে। পিঁয়াজ একসাথে বিক্রি না করে সংরক্ষণ করে যদি দুই-তিন মাস পরে বিক্রি করেন তাহলে চাষিরা ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।
