আসছে বাজেটে বৃহত্ কর দেন এমন করদাতাদের ওপর বাড়তি করের বোঝা না চাপানোর দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের প্রাচীনতম সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই)।
সংগঠনটির অভিযোগ, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবেলার জন্য বৃহত্ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) অধিভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর করের বোঝা আরোপ করা অনুগত করদাতাদের ওপর শাস্তি প্রদানের শামিল। গতকাল রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়োজনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এটি করদাতাদের এলটিইউতে অধিভুক্ত হতে নিরুত্সাহিত করবে। রাজস্ব ঘাটতি পূরণে সরকারকে অন্য বিকল্প সন্ধান করা এবং ‘বিচক্ষণ’ বাজেট প্রণয়নের পরামর্শ দেন তিনি।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। এ সময় এমসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ ছাড়াও এনবিআরের বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমসিসিআইয়ের বাজেট প্রস্তাবে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান কর্পোরেট কর ও ব্যক্তি শ্রেণির সর্বোচ্চ করহার কমানো, ব্যক্তি শ্রেণির বিদ্যমান করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা করা, আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়।
এ সময় এমসিসিআইয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনিস-উদ দৌলা, নীহাদ কবির, ফারুক আহমেদ, আদিব এইচ খান, আক্তার মতিন চৌধুরী, শামসুল আলম মল্লিক ও সাইদ আহমেদ খান প্রমুখ।
ভ্যাট অফিসের হয়রানি দূর করার দাবি উইমেন চেম্বারের :
আসছে বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ২৫টি দাবি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার (বিডব্লিউসিসিআই)। গতকাল বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সংগঠনের সভাপতি সেলিমা আহমাদ নারী উদ্যোক্তাদের বার্ষিক টার্নওভার (বিক্রয়) ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ভ্যাটমুক্ত করার দাবি জানান। সেই সঙ্গে সবক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ৪ শতাংশ রাখা, সিআইপি (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব) নির্ধারণে কোটা রাখা, বিগত বাজেটের ন্যায় এ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা, ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা করা, পৃথক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা, হরতালের ক্ষতি পোষাতে ১০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা, শুল্ক ও ভ্যাটের হয়রানি দূর করা ও সহজ সুদে ব্যাংক ঋণের দাবি জানানো হয়।
শিল্পে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চায় বিসিআই
শিল্পোদ্যোগে আগ্রহ বাড়াতে জমির পরিবর্তে শিল্পে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ। বাজেট আলোচনায় সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জমিতে কালো টাকা বিনিয়োগে সুযোগ দেয়া হলে জমির দাম বাড়বে। ফলে শিল্পোদ্যোগ ব্যাহত হবে। এ জন্য জমিতে এ সুযোগ না দিয়ে কেবল শিল্প বিনিয়োগে দেয়া উচিত। এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে বিদ্যমান আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কস্তর কমানোর দাবি জানানো হয়। বিসিআই’র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু ছাড়াও পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মহব্বত উল্লাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
