ঋণ অবলোপন ও মওকুফ নীতিমালা জারি

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৫, ২০:০০
 
 
 
ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) এবং মওকুফ সম্পর্কিত নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে অবলোপনকৃত  ঋণের ক্ষেত্রে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ ও পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঋণ অবলোপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া, ৫০ হাজার টাকার ওপরে ঋণ অবলোপনের আগে আদালতে মামলা দায়ের করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অবস্থানের ঋণগ্রহীতা ব্যক্তির মূল ঋণ বা আসল মওকুফ করে দিতে পারবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঋণ অবলোপন বা ‘রাইট অফ’ করার মানে হলো—সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যালান্স শিট থেকে ওই ঋণকে অন্য আরেকটি লেজারে সরিয়ে নেয়া। খেলাপি ঋণ শ্রেণিকরণে সাধারণত তিনটি ক্যাটাগরি রয়েছে। এগুলো হলো—সাব স্ট্যান্ডার্ড, ডাউটফুল এবং মন্দ ঋণ। যেসব ঋণ মন্দ ক্যটাগরিতে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকে সেগুলোই রাইট অফের মাধ্যমে ব্যালেন্সশিট থেকে বাদ দেয়া হয়। সাধারণত শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ কম দেখাতেই এটি করা হয়ে থাকে। তবে ব্যালেন্সশিট থেকে বাদ দেয়া অর্থ এই নয় যে, এ ঋণ আর আদায় করা যাবে না বা আদায় হবে না।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়—কেবল মন্দ বা ক্ষতিমানে শ্রেণিকৃত এবং শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করা আছে এরূপ ঋণ অবলোপন করা যাবে। অবলোপনের জন্য নির্বাচিত ঋণের বিপরীতে পূর্বে কোনো কারণে আইনগত ব্যবস্থা গৃহীত না হয়ে থাকলে সেটি অবলোপনের আগে অবশ্যই মামলা দায়ের করতে হবে। তবে ৫০ হাজার টাকা বা এর নিচের অঙ্কের ঋণ মামলা দায়ের ব্যতিত অবলোপন করা যাবে। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো ঋণ অবলোপন করা যাবে না। অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
এ ছাড়া, অবলোপনকৃত ঋণ সম্পর্কিত মামলা নিস্পত্তি তরান্বিত করা বা অবলোপকৃত অর্থ আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ তৃতীয় কোনো পক্ষকে নিয়োগ দিতে পারবে।
এতে আরো বলা হয়—ঋণ অবলোপনের পর সংশ্লিষ্ট ঋণ গ্রহীতাকে খেলাপি হিসেবে উল্লেখপূর্বক, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) রিপোর্ট করতে হবে। এ ছাড়া, প্রতি ত্রৈমাসিকে ঋণ অবলোপনের প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দাখিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।