দরিদ্র হ্রাসে প্রবৃদ্ধি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের তাগিদ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৫, ২০:২১
 
বাংলাদেশে চরম দারিদ্র্য হার কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ১৯৯১-৯২ সময়কালে দেশে ৪৪ শতাংশ মানুষ চরম দরিদ্র্য থাকলেও ২০১০ সালে এ হার ২১ শতাংশে নেমে আসে।
 
৯০ দশকের তুলনায় পরবর্তী দশকে বেশি হারে দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। এর পরেও দেশের ২৫ শতাংশ মানুষ এখনও দরিদ্র। চরম দরিদ্র্র রয়েছে ১১ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ একটি বড় জনগোষ্ঠী এখনও খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সমস্যাসহ স্বল্প আয়ের বৃত্তে রয়েছে।
 
২০২১ সালের মধ্যে সরকার মধ্য আয়ের দেশে উপনীত হবার লক্ষ্য নিয়েছে। এজন্য প্রবৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে সমান্তরাল ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
 
বুধবার শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে টেকসই উপায়ে অতি দারিদ্র্য দূরীকরণ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দিনে বক্তারা একথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল।
 
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ বিনায়ক সেন ‘কি নোট পেপার’ উপস্থাপন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অর্থ ও পরিকল্পানা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, জিইডি সদস্য ড.শামসুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের সচিব সফিকুল আজম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হুমায়ন খালিদসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তাগণ।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষমাত্রা ৭ ভাগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নানা অরাজকতার কারনে তা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।
 
তবে অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুতেই সাড়ে ছয় ভাগের কম হবে না। উত্পাদনশীল খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে দেশে একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণী তৈরি করা গেলে স্বাভাবিকভাবেই অতি দরিদ্র লোকের সংখ্যা কমে আসে। দারিদ্র্য দূর করা অবশ্যই সরকারের দ্বায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে।
 
দরিদ্রতাকে শত্রু উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটাকে দূর করতে হলে শিক্ষা ও সু-ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই।
 
বিনায়ক সেন বলেন, বর্তমানে সাড়ে ৭৪ লাখ জনগোষ্ঠী চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে। মানব উন্নয়ন সূচকের অনেকটিতে বাংলাদেশের ভালো অগ্রগতি রয়েছে। এরপরেও বাল্য বিবাহ রোধ, মা ও শিশুদের অপুষ্টি রোধসহ বিভিন্ন দিকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে।