ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ৯ উপজেলা

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৫, ০৮:৩৪

যশোর জেলার শার্শা, ঝিকরগাছা, মনিরামপুর ও চৌগাছা, মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর, লৌহজং, শ্রীনগর ও সিরাজদীখান এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বেশকিছু ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে ঘর ও গাছ চাপায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের হঠাত্ এ ঝড়ে এসব উপজেলায় ঘরবাড়ি, বিদ্যুতের খুঁটি ও ছোট-বড় অসংখ্য গাছ ভেঙ্গে পড়ে। এতে ঢাকা-মাওয়া সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। ঝড়ে ধান, মরিচ, পিঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় অনেক এলাকা এখনও অন্ধকারে রয়েছে।

মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ নজরুল ইসলামের বরাত দিয়ে যশোর অফিস জানায়, ঝড়ের সময় গাছের ডাল ভেঙ্গে গায়ে পড়লে উপজেলার খোজালিপুর গ্রামে জামেনা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা মারা যান। তিনি ঐ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। এছাড়া ঝড়ের সময় গাছ পড়ে উপজেলায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। কমপক্ষে এক হাজার বড় গাছ ভেঙ্গে গেছে। কাঁচা ঘরবাড়িরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে যাওয়ায় রাতভর গোটা উপজেলায় বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের পণ্ডিতপুর গ্রামের আবদুল হামিদ ও বোরহান, রঘুনাথপুরের বিশ্বনাথ বিশে, অনিল, আব্দুল হামিদ ও আব্দুল মমিনের স্ত্রী জোহরা বেগম আহত হয়েছেন। উপজেলার ডিহি ইউনিয়ন, ঝিকরগাছা গঙ্গানান্দপুর ও শিমুলিয়া ইউনিয়নের কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক ঘরের টিন উড়ে গেছে,  ভেঙ্গে চুরমার হয়েছে টালির ঘর। বিধ্বস্ত হয়েছে পাকশিয়া সম্মিলিত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, লৌহজংয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ উপড়ে ঘরের উপর পড়ে দুই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— পূর্ব শিমুলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী সালেহা বেগম (৮৫) ও পদ্মার চরের পাইকারা গ্রামের পেয়ারা বেগম (৬৫)। ঝড়ে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জেলার ৪ উপজেলায় বিদ্যুত্ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার বিকাল পর্যন্ত বিদ্যুত্ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। অন্যদিকে গাছ উপড়ে পড়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় তিন ঘন্টা বন্ধ থাকে। এসময় শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচলও মারাত্মক বিঘ্নিত হয়। বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ইরি ধান, পাট, তিল, মরিচ ও পিঁয়াজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া গাছ পড়ে শ্রীনগর উপজেলার আরতী পাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম (৫৫) ও আটপাড়া গ্রামের শিশু সজনী (১১ মাস) আহত হয়েছে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, মাত্র পাঁচ মিনিটের টর্নেডো লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে উপজেলার বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থা। রাত ১১ টার দিকে শুরু হওয়া এ ঝড়ের আঘাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত গাছ উপড়ে পড়ে। বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ির চালা উড়ে গেছে। এছাড়া উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির ফটিকছড়ি এবং আজাদী বাজার জোনাল অফিসে খবর নিয়ে জানা গেছে, এ দুই অফিসের আওতাধীন অন্তত ৫০ হাজার গ্রাহক মঙ্গলবার রাত থেকেই অন্ধকারে রয়েছেন। ৩৩ হাজার ভোল্টের এবং ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুত্ লাইন একাধিক স্থানে ছিঁড়ে গেছে। তবে লাইন চালু করতে বিদ্যুত্ কর্মীরা দিনভর কাজ করছেন।