নগরীর প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রধান খাল হিসেবে পরিচিত জেল খালটিও রাতের অন্ধকারে দখলদাররা দখল করে নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই নাজিরের পুল সংলগ্ন এলাকায় স্থাপনা তৈরির লক্ষ্যে খাল ভরাট করে ২টি ভিটে তৈরি করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করতে প্রায় দেড় মাস আগে এ খালের নথুল্লাবাদ অংশে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করা হয়। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধ অপসারণের কথা থাকলেও এর কোন লক্ষণ নেই। কীর্তনখোলা নদী থেকে বয়ে যাওয়া এ খালটি গত এক মাস ধরে শুকিয়ে চৌচির হয়ে আছে। আর এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দখলদাররা খালের জমি ভরাট করে দখল করেছে।
সরেজমিনে নাজিরের পুল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খালের দুই তীরে মাটি ভরাট করে ২টি স্থাপনা তৈরির জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বাঁশের পাইলিং দিয়ে শক্ত করে যে ২টি স্থানে মাটি ভরাট করা হয়েছে তাতে আর খালে পানির প্রবাহ হলেও ভরাট করা স্থানের ক্ষতি হবে না। স্থানীয়রা জানান, রাতের অন্ধকারে মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে জেল খালের ওই অংশ। ইতিপূর্বে নগরীর খালগুলো এ প্রক্রিয়ায়ই দখল হয়েছে। প্রথমে একজন এক এলাকায় খালের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করার পর পাশের এলাকার বাসিন্দারাও যে যার মতো করে দখল করেছে খালের জমি। ফলে খাল দখলদারদের দৌরাত্ম্যে টিকতে না পেরে ড্রেনে রূপ নেয়।
কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে যুক্ত জেল খালটিতে আগের মতো জোয়ার-ভাটা নেই। তবে ময়লা-আবর্জনা এই খাল দিয়েই নিষ্কাশন হয়ে থাকে। দেড় মাস পূর্বে বাঁধ নির্মাণ করায় ময়লা-আবর্জনা আর অপসারণ হতে পারছে না। নগরীর ময়লা-আবর্জনা অপসারণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবর্জনা জমাট বেঁধে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। বেড়েছে মশার উপদ্রব। সাথে খালটির জমি দখলে নিতে ভূমি পিপাসুরা রাতের অন্ধকারে শুরু করেছে ভরাট কাজ। নগরীতে এক সময় থাকা সাগরদী খাল, চানমারীর খাল, ভাটার খাল, ভাটিখানার খাল, বটতলার খাল ও আমানতগঞ্জ খালসহ সিংহভাগ খালই দখল হয়ে গেছে। জেল খালটিও কোন রকম বেঁচে আছে। তবে আগের মতো নৌকায় পণ্য আনা-নেয়া সম্ভব হয় না। এদিকে বালু দিয়ে সিটি করপোরেশন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তৈরি করা বাঁধটির কারণে নগরীর ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্থানীয়রা জানান।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. লুত্ফর আলম জানান, বিশুদ্ধ পানি সরবারহের কাজের জন্যই অস্থায়ীভাবে খালটিতে বাঁধ দেয়া হয়েছে। তবে পানি অপসারণের জন্য বাঁধের নিচে ১০ ইঞ্চি ব্যাসের একটি পাইপ স্থাপন করার কথা তিনি জানলেও বাস্তবে পানি নিষ্কাশনের বিন্দুমাত্র ব্যবস্থা নেই। পুরো খালটি শুকিয়ে চৌচির হয়ে আছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজ শেষ করে বাঁধটি কেটে দেয়া হবে। সিটি করপোরেশনকে অবহিত করেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এ কাজ করছে বলে তিনি জানান।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র দাস ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল মোতালেব জানান, মহানগরীর প্রধান খালে এভাবে বাঁধ তৈরির বিষয়টি তারা অবগত নয়। নগর সৌন্দর্য রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু জানান, এর আগে সিটি করপোরেশন নাজির মহল্লা এলাকায় জেল খালের ওপর সেতু নির্মাণের নামে কালভার্ট নির্মাণ করেছে। কালভাটের কারণে খালের ওই এলাকার আশে-পাশের জমি দখল হয়ে গেছে। বর্তমানে পাইপ নেয়ার নামে খালটির গুরুত্বপূর্ণ যে অংশে বাঁধ দেয়া হয়েছে তাতে ওই অংশটিও দখল হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নাজিরের পুলসহ খালের বিভিন্ন এলাকা দখল হয়ে গেছে।