একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াত নেতা মুহাম্মাদ কামারুজ্জামানের রায় কার্যকরে গরিমসি করার অভিযোগ তুলেছেন গণজাগারণ মঞ্চের ব্যানারে সমবেত লন্ডন প্রবাসীরা।
পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলি পার্কের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে সংগঠনটির উদ্যোগে আদালতের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে মানববন্ধন ও মোমবাতি প্রজ্জ্বল কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, কামারুজ্জামান একটি নরপশু ঘাতক। তার ফাসিঁর রায়ে আমরা খুশি। গরিমসি না করে তা দ্রুত কার্যকর করুন।
উপস্থিত প্রবাসীরা বলেন, কামারুজ্জামানের রায় এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমারা উদ্বিগ্ন। আমাদের মনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যেই নানা প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। শোনা যাচ্ছে তাকে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে পারেন। এমনটা আমরা প্রত্যাশা করি না। উপস্থিত সকলে সরকারের কাছে ফাঁসির রায়ে দ্রুত কার্যকর করতে জোর আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এই জামায়াত নেতাকে ২০১০ সালে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে তার নিজ জেলা শেরপুরের সোহাগপুর গ্রামে অন্তত ১২০ জন নিরস্ত্র কৃষককে হত্যার অভিযোগে যুদ্ধাপরাধ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে তার বিরুদ্ধে আনিত গণহত্যার দায়ে প্রমাণিত হলে ২০১৩ সালের মে মাসে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত।
পরে আসামির পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রায় পূর্নবিবেচনার জন্য আবেদন করে। গত সোমবার উচ্চ আদালত তা খারিজ করেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে আসামির দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাওয়া। আর এই প্রাণ ভিক্ষা না চাইলে খুব শিগগিরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।
অবশ্য এরপূর্বে মানবতাবিরোধী মামলায় অপর আসামি আবদুল কাদের মোল্লা প্রাণ ভিক্ষা চাইতে অস্বীকার করলে তার মৃত্যুণ্ড কার্যকর করা হয়।
অবশ্য শেরপুরের সোহাগপুর গ্রামটি আজো ‘বিধবপল্লি’ হিসেবে সমধিক পরিচিতি লাভ করেছে। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধি মুহাম্মাদ কামারুজ্জামান জামায়াতের ব্যানারে বেশ কয়েকবার জাতীয় নির্বাচনে তার জন্মস্থান শেরপুর থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন। কিন্তু একবারও তিনি বিজয়ী হতে পারেননি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উদিচীর উপদেষ্টা অলি রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মো. আমান উদ্দিন, গণজাগরন মঞ্চের অজন্তা দেব প্রমুখ।
