ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইছামতি নদীর প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা দখল করে নদীর মধ্যে বাঁশের বেড়া ও জাল দিয়ে আটকে নৌ-চলাচল বন্ধ করে মাছ চাষ করছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। প্রতিবাদ করায় সমপ্রতি একাধিক গ্রামবাসীকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত ডিসেম্বর মাসে বিআইডব্লিউটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উচ্ছেদ করে দিলেও তা আবার দলীয় ক্ষমতার বলে বহাল তবিয়তে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের ইছামতি নদীর কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ হতে শিকারীপাড়া বাজার হয়ে বারুয়াখালী বাজার বাহেচর-বক্তারনগর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার জায়গায় অন্তত ৮টি অংশে বাঁশ ও জালের আড়াআড়ি বেড়া দিয়ে মূল নদী আটকে ৩ বছর পূর্বে মাছ চাষ শুরু করেন উপজেলার শিকারীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলিমুর রহমান খান পিয়ারা।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতিক্রমে মরা নদী পুনঃখননের মাধ্যমে আমরা এলাকাবাসীর সাথে মিলে এখানে মাছ চাষ করছি।
শিকারীপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা নদীপথে নৌকায় পণ্য পরিবহন করতাম। এখন নদী আটকে মাছ চাষ শুরু করায় আমাদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, বিআইডব্লিউটিএ’র তত্কালীন চেয়ারম্যান খন্দকার শামসুদ্দোহা নিজে উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ পদক্ষেপ নিলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
উপজেলার বারুয়াখালী গ্রামের মোতাহার মোল্লা বলেন, আগে এই নদী দিয়া লঞ্চে আইতাম-যাইতাম। অ্যাহন নৌকা-ট্রলার কিছুই চলে না।
স্থানীয়রা জানান, ২০০১ সালে নদীর কাশিয়াখালী অংশে বাঁধ দেয়ার কারণে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মাছ চাষের নামে বাকি অংশও আটকে দিয়েছেন। নদীটি এখন মরা জলাশয়ে পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, নদী দখল করে মাছ চাষের প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যানের সহযোগীরা নদীর পানিতে নামতেও বাধা দেন।
স্থানীয় সাবেক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ নদীর বিভিন্ন অংশে নৌ-চলাচল প্রতিবন্ধক অপসারণ করেছে।
এ ব্যাপারে আলিমুর রহমান খান পিয়ারা বলেন, এক সময়ে এ নদী দিয়ে ছোট লঞ্চ চলাচল করলেও নদীর মুখে বাঁধ থাকায় এখন নদী নেই। এটি বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। তাই মত্স্য সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে লীজ নিয়েই মাছ চাষ করা হচ্ছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল আহসান বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। নদীতে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ চাষের অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
