ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ টি-২০ টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হবে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। গতকাল দুই সেমিফাইনালে জয় পেয়ে টুর্নামেন্টের ট্রফি জয়ের মঞ্চে উঠে এসেছে ক্লাব দুটি। আগামী ৪ মার্চ সন্ধ্যায় মিরপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ।
গতকাল প্রথম সেমিফাইনালে জিয়াউর রহমানের ব্যাটিং ঝড়ে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে শেখ জামাল। সন্ধ্যায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রাইম ব্যাংককে ছয় উইকেটে পরাজিত করেছে প্রাইম দোলেশ্বর।
দ্বিতীয় সেমিতে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৭০ রান করেছিল প্রাইম ব্যাংক। জাকির হাসান ৫২, অলক কাপালি ৫৫, এনামুল হক বিজয় ১২ রান করেন। দোলেশ্বরের ফরহাদ রেজা ৩২ রানে ৫টি, এনামুল জুনিয়র দুটি করে উইকেট পান। জবাবে ১৯.৪ ওভারে চার উইকেটে ১৭১ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় দোলেশ্বর। ৫২ রানে দুই উইকেট হারানো দোলেশ্বরকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন সাইফ হাসান ও মার্শাল আইয়ুব। সাইফ হাসান ৬১, মার্শাল ৪৬ রান করেন। শেষ দিকে রান-বলের দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়ে দলকে দুর্দান্ত জয় এনে দেন ৮ বলে অপরাজিত ২৪ রান করা ফরহাদ রেজা।
এর আগে প্রথম ম্যাচে প্রায় ভুলতে বসা নিজের ‘হার্ডহিটার’ তকমাকে জাগিয়ে তুলেছিলেন জিয়াউর রহমান। গতকাল মিরপুরে যেন বহুদিন পর জেগে উঠল জিয়ার ঘুমন্ত ব্যাট। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী আরেকবার মঞ্চস্থ করলেন তিনি। রীতিমতো ছক্কা বৃষ্টিই নামিয়ে আনলেন জিয়া। আর তাতেই চিড়েচ্যাপ্টা হলো শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। ব্যাট হাতে জিয়ার রুদ্রমূর্তি এবং নুরুল হাসান সোহানের সময়োচিত ব্যাটিংয়ে ফাইনালে উঠে গেল শেখ জামাল।
প্রথমে ব্যাট করে সাত উইকেটে ১৮১ রান তুলেছিল শাইনপুকুর। জবাবে জিয়া-নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটে ১৭.৪ ওভারে পাঁচ উইকেটে ১৮২ রান সংগ্রহ করে ম্যাচ জিতে যায় শেখ জামাল। জিয়ার ২৯ বলে অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংসটাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। এমন বিস্ফোরক ইনিংস খেলে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।
শাইনপুকুরের দেয়া ১৮২ রানের টার্গেট পাড়ি দেয়া সহজ কর্ম ছিল না শেখ জামালের জন্য। রান তাড়া করতে নেমে নবম ওভারেই দলীয় ৬৫ রানে পাঁচ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরলে কার্যত বড়সড় বিপদে পড়ে দলটি। তারপরই শেখ জামালের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। ষষ্ঠ উইকেটে জিয়া ও নুরুল হাসান সোহান দলের হাল ধরেন। ক্রমেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তারা। শাইনপুকুরের বোলারদের উপর বেশি তোপ দাগিয়েছেন জিয়া। চারটি চারের সঙ্গে সাতটি বড় ছক্কা মেরেছেন এই ব্যাটসম্যান।
জিয়া খেলেছেন অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস। তার ও নুরুল হাসান সোহানের ১১৭ রানের জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শেখ জামাল। নুরুল হাসান সোহানও কার্যকর ব্যাটিং করেছেন। ৩১ বলে ৪৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। শাইনপুকুরের সোহরাওয়ার্দী শুভ দুটি, টিপু সুলতান-দেলোয়ার হোসেন একটি করে উইকেট পান।
এর আগে প্রথম ওভারে রাকিবের (০) উইকেট হারালেও সাব্বির হোসেন ও আফিফ হোসেনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় বড় স্কোরের ভিত পায় শাইনপুকুর। তারা ১১৩ রানের জুটি গড়েন। ব্যাট হাতে আক্রমণটা বেশি করেছেন আফিফ। ১৩তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ৪১ বলে ৬৫ রানের (৭ চার, ৩ ছয়) ঝকঝকে ইনিংস উপহার দেন এই তরুণ। ৩২ বলে ৪৭ রান করে ফিরেন সাব্বির হোসেন। মিডল অর্ডারে তৌহিদ হূদয়ের ২৪, অধিনায়ক শুভাগত হোমের ৩১ রানে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে শাইনপুকুর। শেখ জামালের সালাউদ্দিন শাকিল চারটি, শহীদুল দুটি ও ইলিয়াস সানি একটি করে উইকেট পান।
