‘অবরোধে সিলেট অঞ্চলের শুল্ক-স্টেশনে তেমন প্রভাব পড়েনি’

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৫, ২০:৩০
টানা অবরোধ-হরতাল কর্মসূচিতে সিলেট অঞ্চলের শুল্ক স্টেশনগুলোর আমদানি-রফতানিতে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি। রাজস্ব আদায়ের হারও একেবারে কম নয়। 
 
কর্মকর্তারা জানান, চলমান অবরোধের শুরুতে আমদানি-রফতানি কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও গত মার্চ থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করেছে। 
সূত্র জানায়, সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫’শ পণ্যবাহী গাড়ি আসা যাওয়া করে। শেওলা ও অন্যান্য স্টেশন দিয়ে আরো দেড় শতাধিক গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু মালামাল বিপণনের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা পুরোপুরি কেটে ওঠা যায় নি। 
 
আমদানিকৃত কয়লা ও পাথর পরিবহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে। ভারতের সেভেন সিস্টার্স বলে পরিচিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে আসামের কয়লার গুণ ও মান খুবই ভালো। গত এক বছর থেকে ভারতের আসাম রাজ্যের কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে সেখানকার আভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে। যদিও সেভেন সিস্টার্সের নাগাল্যান্ড থেকে কিছু কিছু কয়লা আমদানি হচ্ছে সিলেটের তামাবিল ও শেওলা দিয়ে। কিন্তু পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে কোটি কোটি টাকার পাথর অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট শুল্ক স্টেশন এলাকায়।
 
আমদানি ও রপ্তানিকারকরা বলেন, অবরোধে শুল্ক স্টেশন বন্ধ থাকে না। তবে আমদানিকৃত পণ্য পরিবহনে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। 
তারা বলেন, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। 
তামাবিল শুল্ক স্টেশনের স্থানীয় কয়লা পাথর ব্যবসায়ী মিনহাজ উদ্দিন জানান, অবরোধকারীরা যানবাহনে আগুন দেয়ার কারণে চালকরা ঝুঁকিতে গাড়ি চালাতে চান না । ফলে আমদানিকৃত কয়লা-পাথর গুদামে অবিক্রিত পড়ে থাকে। ক্ষতির মুখে পড়তে হয় ব্যাবসায়ীদের।
 
এদিকে সিলেটের তামাবিল ও শেওলা শুল্ক স্টেশন থেকে জানুয়ারিতে শুল্ক আদায় হয় ৫ কোটি ২৩ লাখ ৬ হাজার ৫২৭ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৮১ হাজার ৮০৬ টাকা আদায় হয়। আবারো মার্চ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ কোটি ৩৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৭৩ টাকায়।
২০১৩-১৪ অর্থ বছরে সিলেটের ১৩টি শুল্ক স্টেশনে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছিল ২৯৬ কোটি ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর বিপরীতে মোট রাজস্ব আদায় করা হয় ২৩২ কোটি ৯৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা। তবে এক বছর থেকে ভারত থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকার কারণে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কিছু কম।
 
সিলেট কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানান, সিলেট অঞ্চলের ১৩টি শুল্ক স্টেশন দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। তামাবিল ও শেওলা (সুতারকান্দি) শুল্ক স্টেশন দিয়ে সবচেয়ে বেশি কয়লা ও পাথর আমদানি করা হয়। এ দু’টি শুল্ক স্টেশন থেকেই সরকারের মোটা অংকের রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে। কিন্তু ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকার কারণে প্রায় এক বছর ধরে এ দু’টি শুল্ক স্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কিছুটা হলেও ব্যাহত হয়েছে। 
সিলেট জেলায় তামাবিল, শেওলা, ভোলাগঞ্জ ও জকিগঞ্জ। সুনামগঞ্জ জেলায় ছাতক, চেলা, ইছামতি, বড়ছড়া, বগলী, চারাগাঁও। মৌলভীবাজার জেলায় মুড়ি (বেতুলী), চাতলাপুর ও হবিগঞ্জ জেলায় বাল্লা শুল্ক স্টেশন দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়।
ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে কয়লা, পাথর, চুনাপাথর, ক্লিংকার, সাতকরা, শুঁটকি, টমেটো, আদা, পিঁয়াজ, পান, রো-হাইস্কিল, হ্যালমেট, বে-লীফ, আক্সগুর, আম, কলা, আনারস, লিচু ও ভাঙ্গা কাঁচ। আর রফতানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে: খাদ্যসামগ্রী, তুলা, প্লাস্টিকসামগ্রী, সিমেন্ট, মেলামাইন, ক্লোরিন গ্যাস, আসবাবপত্র, বিভিন্ন ধরনের মাছ, খৈলসহ বিভিন্ন পণ্য। 
সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি সালাহ উদ্দিন ফালাহ জানান, অবরোধের কারণে এসকল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে আমদানির পর পণ্য সামগ্রী বিপণন বা বাজারজাত করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। তবে এখনো অধিক ভাড়া দিয়ে মালামাল পরিবহন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।