পরিকল্পনা কাজে লাগেনি বাংলাদেশের

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ২১:৫৯

হ্যামিল্টনে দ্বিতীয় দিনে নিউজিল্যান্ড বোর্ডে জমা করেছে আরও ৩৬৫টি রান। এর মধ্যে প্রথম সেশনে এসেছে ১১১, দ্বিতীয় সেশনে ১২৯ ও তৃতীয় সেশনে ১২৫। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে লিড ২১৭ রানের। উইকেট হারাতে হয়েছে মাত্র চারটি।

ম্যাচের এমন অবস্থানে দাঁড়িয়ে কোচ স্টিভ রোডস মনে করছেন, নিজেদের পরিকল্পনা কাজে লাগাতে না পারার ব্যর্থতারই মাশুল গুণছে বাংলাদেশ দল। দিনের খেলা শেষে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে আজ (গতকাল) আমরা কিছুই নিতে পারিনি। বিশেষ করে ওদের ওপেনিং জুটিটা দারুণ খেলেছে। খেলার বল খেলেছে, ছাড়ার বল ছেড়ে দিয়েছে। আমাদের পরিকল্পনাগুলো ভেস্তে দিয়েছে। ওরা দারুণ একটা ভিত গড়ে দিয়ে গেছে, যার কারণে নিউজিল্যান্ডের স্কোর এখন এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।’

কোচ মনে করছেন, বাংলাদেশের জন্য দিনটা শক্ত ছিল। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এ দিনটা খুব কঠিন ছিল। আমাদের শুরুটা ভালো হয়নি। বোলিংয়ে যেটা করতে চেয়েছিলাম, সেটা পারিনি। একটু বেশিই লেগে বল ফেলেছি আমরা। আমরা বোলিংয়ের কৌশল পাল্টে শর্ট বলে জোর দিচ্ছিলাম।  যদিও, এমন কৌশল কাজে লাগাতে দুই প্রান্ত থেকেই করা দরকার ছিল।’

অভিষিক্ত এবাদত হোসেনের বোলিংয়ের প্রশংসা করলেন কোচ। এবাদত নিজের প্রথম টেস্ট ইনিংসে দ্বিতীয় দিন অবধি ২১ ওভার বোলিং করে চারটি মেইডেন দিয়েছেন। ৭৭ রান হজম করা এ বোলার অবশ্য কোনো উইকেট পাননি। কোচ বলেন, ‘এবাদত দারুণ উদ্যম ছিল। ওর বোলিংয়ের পেসটা ভালো। ও বাংলাদেশের মতো দারুণ একটা ব্যাপার হতে পারে ভবিষ্যতে। তবে, এ নিয়ে তাকে আরও কাজ করতে হবে। যত অভিজ্ঞতা বাড়বে তত ওর দক্ষতা বাড়বে। সত্যি কথা হলো, ওরা তো খুব বেশি ক্রিকেট খেলার সুযোগ পায় না। যত খেলবে, তত বিষয়গুলো ঠিক হয়ে যাবে।’

এবাদতের বোলিংকে আরও শাণিত করতে কয়েকটা জায়গায় মনোযোগী হতে বললেন কোচ, ‘কিছু জায়গায় ওর এখনো উন্নতির সুযোগ আছে। বিশেষ করে লাইন-লেন্থে জোর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করতে এর কোনো বিকল্প নেই। আশা করি, শিগগিরই ও এ দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠবে।’

বাকিদের ব্যাপারে কোচ বলেন, ‘খালেদ, রাহি কয়েকটা সময় বেশ ভালো বল করেছেন। সৌম্যর বোলিংও ভালো ছিল। সত্যি কথা বলতে এ দিনে নিউজিল্যান্ড নিজেদের ক্লাসটা বুঝিয়ে দিয়েছে। কেন উইলিয়ামসন দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাট করেছেন। উইকেটটা ছিল বেশ ফ্ল্যাট। এ অবস্থায় নিউজিল্যান্ড উইকেট না দেওয়ার মানসিকতা দিয়ে ব্যাট করে গেছে। এখানে ওদের আউট করা তাই খুবই শক্ত কাজ ছিল।’

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের জন্য টেস্টে জয় পাওয়া শক্ত। তবে, একে অসম্ভব মানছেন না রোডস। তিনি বলেন, আমি মনে করি, অবশ্যই আমরা পারব। তবে হ্যাঁ এটা কঠিন হবে অনেক। আমার মতে বিদেশের মাটিতে নিয়মিত ভালো খেলার কৌশল রপ্ত করাটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। আমরাও এটা বুঝতে পারছি। আজ আমরা তেমন উইকেট না পেলেও উইকেটের সুবিধা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।’

একদিন আগেই শর্ট বলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা ছিল লক্ষণীয়। এ ব্যাপারে কোচ মনে করছেন, বাইরের কন্ডিশনে এ সমস্যা অন্য দলগুলোর মধ্যেও দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানদের শর্টবল সামলানোর কৌশল রপ্ত করতে হবে। যেটা তামিম বেশ ভালোভাবেই দেখিয়েছে। আমরা ম্যাচগুলো পাঁচ দিনে নিতে পারব অবশ্যই তবে আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে। অনেক দলই বাংলাদেশ সফরে গিয়ে জয়ের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে। শুধু আমরাই এমন না যে বাইরে খেলতে গিয়ে হোঁচট খাই। আমাদের একটা পদ্ধতি আছে যেটা অনুসরণ করে দেশের মাটিতে সাফল্য পাই। লোকে সেটাই বের করার চেষ্টা করছে।’