যমুনার ভাঙ্গন ঠেকাতে ফুলছড়িতে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৫, ০০:৩৯

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ভাদরপাড়া গ্রামে নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষজন বাঁশ, চাটাই, বালির বস্তা দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ৯শ’ মিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। এতে যমুনা নদীর পানির স্রোত ওইখানে বাধাগ্রস্ত হয়ে অন্যদিকে প্রবাহিত হবে। ফলে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে ৭১’এর বধ্যভূমি, গণকবর, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ২০ ফুট প্রস্থ ও সাত ফুট উঁচু এ বাঁধের প্রায় ৩০ ভাগ নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপর ভরসা হারিয়ে গ্রামবাসী এবার নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধানের আশায় এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বিরামহীনভাবে এক উত্সবমুখর পরিবেশে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। কেউ বালু সংগ্রহ করছেন, কেউ সেই বালু বস্তায় ভর্তি করছেন, কেউ বালুভর্তি বস্তা মাথায় করে নিয়ে আসছেন, কেউ করছেন বাঁশের পাইলিং। এভাবে প্রতিদিন শত শত লোক বিভিন্নভাবে সহায়তা করে চলছেন।
উদ্যোক্তারা জানান, বর্ষায় যমুনা নদীর ভাঙনে গজারিয়া ও আশপাশের গ্রামের ঘরবাড়ি, আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়। আসন্ন বর্ষায় ভাঙন ঠেকানো না গেলে নদীর পশ্চিম পাশের গজারিয়া গ্রামে অবস্থিত ফুলছড়ি কলেজ, সিনিয়র আলিম মাদ্রসা, দুটি মন্দির, স্থানীয় শহীদ মিনার, সাবেক উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবন, একাত্তরের বধ্যভূমি, গণকবর এবং গজারিয়ার পার্শ্ববর্তী নামাপাড়া, কামারপাড়া, সাঘাটা উপজেলার বরমতাইর ও গোবিন্দি গ্রামের শত শত একর আবাদি জমি ও বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। উদ্যোক্তারা আরও জানান, এই কাজে গ্রামবাসী সামর্থ্য অনুযায়ী ২০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা, কেউ বাঁশ, কেউ শ্রম, কেউ বস্তা দিয়ে সাহায্য করেছেন।
ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, গত বছর বন্যায় পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম ফুলছড়ি উপজেলার নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন। তিনি ওই সময় গাইবান্ধার ঘাঘট নদীর সীমানা থেকে ফুলছড়ির গজারিয়ার গণকবর পর্যন্ত নদী শাসনের জন্য ৩২০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই ঘোষণার বাস্তবায়নের কোন কোনো হদিস নেই। তাই আর সরকারের দিকি চেয়ে না থেকে নিজেদের কাজ নিজেরাই শুরু করেছি। ‘বর্ষার আগেই বাঁধটির নির্মাণকাজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। তবে আরও ১০ লাখ টাকা দরকার। তাই আর্থিক সহায়তা চেয়েও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদনসহ বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনোতোষ রায় বলেন, পাউবোর কাজের কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নাই। তারা শুকনো মৌসুমে কাজ করে না। যেই ভাঙন শুরু হবে, তাদেরও কাজ শুরু হবে। সেই কাজ তো বর্ষাতেই বিলীন হয়ে যায়।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নদী ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোন কাজ হয়নি। তাই কারও ভরসায় না থেকে এলাকাবাসীর এই প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।

গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আউয়াল লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গজারিয়া এলাকায় ভাঙন রোধে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে গত ৩০ মার্চ দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৫৯ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অচিরেই কাজ শুরু হবে।