সিলেটে মনোনয়ন লড়াইয়ে এক ডজন হেভিওয়েট নেতা

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪৫

সিলেটের ১৯টি আসনে বইছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। এই হাওয়ায় অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকটা টালমাটাল। অনেকের টেনশনের অন্ত নেই। কারণ এবার কেউ নিশ্চিত নন মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে। বড় নেতারাও উদ্বিগ্ন। অনেক আসনে নিজ দলের মধ্যকার বিভেদ মিটাতে তত্পর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। কেউ কেউ ছুটে এসেছেন ঢাকা থেকে। তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূলে। অন্যদিকে নিজ দলের প্রতিপক্ষ মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ঘায়েল করতে তত্পর অনেকেই। 

এদিকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের কোন নেতা বা কর্মী এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কার ভাগ্যে কি ঘটছে। আওয়ামী লীগ থেকে এবার বিদ্রোহী হওয়ারও সুযোগ নেই আগের মত। তাই সরকারি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একটু বেশি টেনশনে।

এদিকে সিলেটের ৬টি আসনে অর্ধশতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের প্রায় একডজন হেভিওয়েট নেতা রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে তারাও কেন্দ্রে চালিয়ে যাচ্ছেন লবিং। হেভিওয়েটদের নিয়ে সাধারণ ভোটারদের আগ্রহের কমতি নেই।

দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সংসদীয় আসন হিসেবে পরিচিত সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন-সদর)। বলা হয়, এ আসনে বিজয়ী প্রার্থীর দলই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। এজন্য এ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রতিযোগিতা থাকে। সবকটি দলই চায় এ আসনে সঠিক প্রার্থী দিয়ে আসনটি নিজেদের দখলে নিতে। এবারো এর ব্যতিক্রম নয়। আওয়ামী লীগ থেকে এবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু মুহিত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও তার আগ্রহ ছোট ভাই জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমনেকে নিয়ে। তিনি নির্বাচন না করলে এ আসনে মোমেনকে প্রার্থী দিতে চান তিনি। অন্যদিকে এ আসনটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লড়াইয়ে রয়েছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। এছাড়া এ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।  

এছাড়া বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট থেকে সিলেট-১ আসনেও আলোচনায় আছেন একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী। এদের মধ্যে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম                   আহমদ চৌধুরী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের নাম আলোচিত হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও এ আসনের জন্য সিলেটের মেয়ে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা: জোবায়দা রহমানও প্রার্থী হতে পারেন এমন কথা ভোটের মাঠে ছিল। তবে পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার সহসা দেশে ফেরা সম্ভব নাও হতে পারে-এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে গত  ৭-৮ বছর ধরে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মালিকের ছেলে ও বিএনপি চেয়ারপর্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তবে তিনিও মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন সাবেক এমপি, পূবালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার। সিলেট-৬ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থীর তালিকায় আওয়ামী লীগ থেকে আলোচনায় আছেন বর্তমান এমপি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তবে এ আসনে এবার সদ্য বিকল্পধারায় যোগ দেওয়া শমসের মবিন চৌধুরী প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। আবার এই আসনটিতে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হতে পারেন জামায়াত নেতা মাওলানা হাবিবুর রহমান।