ঢাকা সিটি নির্বাচনী মাঠে পুরোমাত্রায় বিএনপি

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৫, ১৬:১৯


পুরোমাত্রায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাঠে নেমেছে বিএনপি। বিএনপি সমর্থিত ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল গতকাল জনসংযোগে নেমেছেন। দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাস বহু মামলার জালে জড়িয়ে থাকায় গ্রেফতার আতঙ্কে প্রকাশ্যে আসতে পারেননি। তার পক্ষে তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস গত তিনদিন নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
 

গতকাল ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’-এর পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাধারণ কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এই তালিকা ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’-এর নেতাদের হাতে দেয়ার পর তারা গত রাতে গণমাধ্যমে প্রেরণ করেছেন।
 

এই তালিকাটি সাদেক হোসেন খোকা এবং মির্জা আব্বাসের দেয়া তালিকা থেকে বাছাই করে করা হয়েছে বলে দলের সূত্র দাবি করেছে। তবে গত রাতেই এই তালিকার বিরুদ্ধে কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী ‘বিদ্রোহ’ করেছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে একক প্রার্থীর কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
 

তাবিথ আউয়াল রাজধানীর কাওরান বাজারে হযরত আম্বর শাহ (র.) শাহী মসজিদে গতকাল জুমার নামাজের পর হযরত আম্বর শাহের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এ সময় বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাবিথ আওয়াল নামাজ ও মাজার জিয়ারতের পর মসজিদের উত্তর পাশের রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষের কাছে নিজের নির্বাচনী প্রতীক ‘বাস’ এর জন্য ভোট ও দোয়া চান।
 

জুমার নামাজের আগেই কাওরান বাজারের আম্বর শাহ মসজিদে ফার্মগেট, তেজকুনিপাড়া, তেজতুরিবাজার, ইন্দিরা রোডের স্থানীয় বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। কাওরান বাজারের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দোকানীদের দোয়া ও সমর্থন চান। পরে আরজতপাড়া হয়ে নাখালপাড়ায় গিয়ে প্রচারণা শেষ করেন। বাদ আছর তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। নেতাকর্মীসহ ঢাকা ও দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি।
 

নির্বাচিত হলে নগরীর জন্য কী করার পরিকল্পনা রয়েছে জানতে চাইলে তাবিথ জানান, রাজধানীর মেয়র হওয়ার জন্য তার বাবা আবদুল আউয়াল মিন্টু দীর্ঘদিন স্বপ্ন দেখেছেন। এ নিয়ে তিনি তার পরিকল্পনাও তৈরি করেছেন। সামান্য ভুলে আপাতত তার স্বপ্ন পূরণ হল না। একটি আদর্শ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে দীর্ঘদিন তার বাবা যে স্বপ্ন দেখেছেন তিনি নির্বাচিত হলে সেভাবেই শুরু করতে চান।
 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস গতকাল সকাল দশটায় এজিবি কলোনী, মতিঝিল থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। বেশক’টি এলাকায় গণসংযোগ করেন।
 

আফরোজা আব্বাস বলেন, লেভেল প্লেয়িং পরিবেশে গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ দিলে এবং অবাধ, নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট দিতে পারলে নগরবাসী ২৮ এপ্রিল ব্যালটের মাধ্যমে সরকারের দুঃশাসনের জবাব দেবে।
 

তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নেয়া আমাদের আন্দোলনেরই অংশ। আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি। জনগণ আমাদের সাথে রয়েছে।
 

এক প্রশ্নের জবাবে আফরোজা আব্বাস বলেন, পেট্রোল বোমা, অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসের রাজনীতি আমরা করি না। এসব হচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সাবোটেজ। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপপ্রচার চালিয়ে কোন লাভ হবে না। জনগণ আমাদের সাথে আছেন। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সরকার যদি বলপ্রয়োগের চেষ্টা করে, ফলাফল পাল্টানোর চেষ্টা করে তবে সেটা হবে সরকারের জন্য বুমেরাং। শিগগিরই মির্জা আব্বাসকে নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান আফরোজা আব্বাস।

খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণা সোমবার থেকে

 

সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও উত্তর সিটিতে মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালসহ কাউন্সিলর প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে ‘আর্দশ ঢাকা আন্দোলন’।
 

ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। সিটি নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীদের জন্য ভোট চাইতে খালেদা জিয়ার আইনী বাধা নেই। কারণ তিনি এমপি-মন্ত্রী কিংবা জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের নেতা নন। বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা মনে করছেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মাঠে নামলে দ্রুতই চাঙা হয়ে উঠবে নেতাকর্মীরা।
 

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল ও জোট সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে বেশ কয়েকটি পথসভায় অংশ নেবেন। প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি চট্টগ্রামেও যেতে পারেন। সম্ভাব্য এসব পথসভায় দল ও জোট সমর্থিত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি নগরবাসীর কাছে ভোট চাইবেন।
 

দলের সূত্র জানায়, মির্জা আব্বাস আত্মগোপনে। তিনি বাইরে এসে প্রচার চালাতে পারবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। তাবিথ নতুন মুখ। তার কোন পরিচিতি নেই। এ কারণে খালেদা জিয়া প্রচারণার মাঠে নামতে চান জোরালোভাবেই।

ভোটের ৭ দিন আগে সেনা চায় বিএনপি

 

আসন্ন সিটি নির্বাচনের অন্তত এক সপ্তাহ আগে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ‘আর্দশ ঢাকা আন্দোলন’-এর প্রধান প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ। প্রত্যেক ভোটার যাতে নিরাপদে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, প্রার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে পারে এবং সিটি নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করার জন্যই তিনি এ দাবি জানান।

 

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল আয়োজিত ‘গুমখুন, অপহরণ ও গ্রেফতার আতঙ্কের মধ্যে সিটি করপোরেশ নির্বাচন’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ দাবি জানান।

 

প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘সিটি নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সে লক্ষ্যে নির্বাচনে ভোট গ্রহণের অন্তত এক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী মোতায়নের দায়িত্বও তাদের।’ সেনা মোতায়েন না হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।