ডাস্ট টু ডাস্ট (২০১০-২০১৫) -- শিল্পী মাহবুবুর রহমানের একক প্রদর্শনী

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৫, ২৩:১৫
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৫, বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে (৬০, গুলশান ১, রোড ১৩১, গুলশান সার্কেল ১, ঢাকা ১২১২)  বিকেল ৬টায় “ডাস্ট টু ডাস্ট (২০১০ – ২০১৫)” শীর্ষক ৩ সপ্তাহব্যাপী শিল্পী মাহবুবুর রহমান এর একক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে উদ্বোধন করেছেন বরেণ্য লেখক সৈয়দ শামসুল হক এবং চিত্রশিল্পী শহীদ কবির।
 
শিল্পী মাহবুবুর রহমান এর ২৫ বছরের সৃজনশীল শিল্পচর্চা তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করেছে বাংলাদেশের একজন অন্যতম প্রধান মৌলিক শিল্পী হিসেবে। ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে চিত্রশিল্পে স্নাতক ডিগ্রী লাভের পর থেকেই শিল্পী মাহবুবুর রহমান তাঁর শিল্পকর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পচর্চার চিরাচরিত ধারাকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করার চর্চা শুরু করেন। পাঠ্যক্রমের গতানুগতিক ধারাকে ভেঙ্গে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মিশ্র-মাধ্যমের একজন অগ্রগামী শিল্পী হিসেবে।
 
ডাস্ট টু ডাস্ট (২০১০ – ২০১৫)” প্রদর্শনীটিকে বলা যেতে পারে শিল্পী মাহবুবুর রহমান এর বহুরূপী প্রচেষ্টার এক প্রয়াস হিসেবে – চারকোল ড্রয়িং থেকে শুরু করে শব্দ ও আলো ব্যাবহার করে এবং নানা শিল্পজাত বস্তু তৈরী করে জটিল স্থাপনা শিল্প, এ সবই শিল্পীর শিল্পমননের ব্যাতিক্রমধর্মী অনুসন্ধানেরই বহিঃপ্রকাশ।
 
কিছুটা নতুন, কিছুটা পূর্বের শিল্পকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনী আয়োজন করতে যাচ্ছে শিল্পীর পুরনো শিল্পকর্মের সঙ্গে নূতন শিল্পকর্মের এক বিরল মিশ্রণ। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে “I was told to say these words” (বাংলাঃ আমাকে এই শব্দগুলো বলতে বলা হয়েছিল) শীর্ষক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্মটি, ২০১১ সালে যা ভেনিস বিয়েনাল এ প্রদর্শিত হয়েছিল, প্রথমবারের মত বাংলাদেশে প্রদর্শিত হবে এই প্রদর্শনীতে।
 
শিল্পী মাহবুবুর রহমান এর গবেষণা বিষদ আকারে মূলত তাঁর শিল্প-স্বত্বারই অন্বেষণ। নিজ শিল্প-স্বত্বা এবং সমাজ ও ধর্মের জারি করা বিধান এর মধ্যেকার জটিল সম্পর্ক অথবা উপনিবেশ পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে ক্ষমতা ও নিপীড়ন এর দ্বৈতঃস্বত্বাকে প্রশ্ন করে এই প্রদর্শনী।
 
বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জ, সমকালীন শিল্পের প্রতি উৎসর্গিত এ প্রতিষ্ঠানের যাত্রায় “ডাস্ট টু ডাস্ট (২০১০ – ২০১৫)” শীর্ষক প্রদর্শনীটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জ কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে এই প্রদর্শনী বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জকে বাংলাদেশে কন্সেপচুয়াল আর্টের কর্ণধার হিসেবে আরও একধাপ সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।