চীনে সুপারকম্পিউটার আপডেটে যুক্তরাষ্ট্রের বাধা

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৫, ১২:১১
পারমাণবিক গবেষণার কাজে ব্যবহূত হচ্ছে—এমন অভিযোগ এনে বর্তমান বিশ্বের সর্বোচ্চ গতির সুপারকম্পিউটার চীনের টায়ানহে-২-এর আপডেট বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সুপারকম্পিউটারে প্রচুর পরিমাণ ইন্টেল চিপ ও প্রসেসরের ব্যবহার থাকায় এর আপডেটের জন্য ইন্টেলের কয়েক হাজার চিপ ও প্রসেসরের প্রয়োজন হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইন্টেলকে এসব যন্ত্রাংশ সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে সব সুপারকম্পিউটারকেই আপডেট করা হয় এবং এদের কর্মক্ষমতাও ক্রমেই বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় টায়ানহে-২কেও আপডেট করা হয়েছে এর আগেও।
 
কিন্তু এবারে আর সম্ভব হচ্ছে না টায়ানহে-২-এর আপডেট। ৩৩.৮৬ পেটাফ্লপ গতির এই সুপারকম্পিউটারে ইন্টেলের ৮০ হাজারেরও বেশি জিওন প্রসেসর চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। এর গতিতে প্রায় তিন গুণ (১১০ পেটাফ্লপ) করার উদ্দেশ্যেই একে আপডেট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল চীনের পক্ষ থেকে। এই আপডেটের জন্য প্রচুর পরিমাণ ইন্টেল জিওন প্রসেসর ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল। সেই অনুযায়ী ইন্টেলের এগুলো সরবরাহ করার কথা থাকলেও এগুলো চীনে রপ্তানির জন্য ইন্টেলকে আবেদন করার নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এই আবেদন করলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
 
কেবল টায়ানহে-২ নয়, চীনের অন্যান্য সুপারকম্পিউটারের আপডেটের জন্যও কোনো সহায়তা করতে পারছে না ইন্টেল। এর কারণ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক অনলাইন নোটিশে জানানো হয়, চীনে মূলত পারমাণবিক গবেষণায় এসব সুপারকম্পিউটার ব্যবহূত হচ্ছে। আর এর মাধ্যমে এগুলো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে।
 
ফলে এসব সুপারকম্পিউটারের আপডেটে কোনো ধরনের সহায়তা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক বলেই ইন্টেলকে চীনে কোনো ধরনের চিপ সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিকে চীনের সুপারকম্পিউটার আপডেটে বাধা দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইন্টেলের সাথে ২০০ মিলিয়ন ডলারের এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে অরোরা সুপারকম্পিউটার তৈরিতে কারিগরি সহায়তা দেবে ইন্টেল। এই সুপারকম্পিউটারের গতি হবে প্রতি সেকেন্ডে ১৮০ পেটফ্লপ!