মেঘনার ইলিশ অভয়াশ্রমে দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ২২:০৫

ইলিশের জাটকা সংরক্ষণের জন্য মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও ইলিশা নদীর উপকূলীয় তিনটি ইলিশ অভয়াশ্রমে গতকাল ১ মার্চ শুক্রবার থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দু’মাসের জন্য (মার্চ ও এপ্রিল) ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময় সারাদেশে ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, বিনিময় এবং মজুতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।  

মত্স্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এর ১৩ ধারা অনুযায়ী মত্স্য অধিদপ্তর ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মত্স্য সম্পদ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিষয়ক সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মত্স্য বিভাগ, পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং ইউনিয়ন পরিষদ এ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। উপজেলা মত্স্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার ও বয়ারচর পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার, ভোলা জেলার মদনপুর চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহবাজপুর চ্যানেলের ৯০ কিলোমিটার এবং ভোলা জেলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালী জেলার চর রুস্তুম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকার ইলিশ অভয়াশ্রমগুলো নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সিনিয়র উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা ও উপজেলা টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব মো. জসিম উদ্দিন জানান, মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য জেলে পল্লীসহ মাছঘাট এলাকা এবং উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নানা ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। লিফলেট, পোস্টার ও মাইকের মাধ্যমে এলাকায় প্রচার-প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। এছাড়া মাছ ধরা প্রতিরোধের জন্য মোবাইল কোর্টও পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিনিয়র উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আরও জানান, মাছ ধরা বন্ধ থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারকে ‘বিশেষ ভিজিএফ’ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। চার মাস (ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে) এই বিশেষ ভিজিএফ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। উপজেলায় ২০ হাজার ৩৬০ নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৮৬০ জন পেশাগত পরিচয়পত্র (জেলে কার্ড) পেয়েছেন। এদের মধ্যে ১১ হাজার ২৬৫ জন বিশেষ ভিজিএফ সহায়তা পাচ্ছেন।