বরিশালের গৌরনদী উপজেলার প্রত্যন্ত উত্তর চাঁদশী গ্রামের প্রায় একশ’টি বাদ্যকর পরিবার পেশা বদল করে তালপাতা তৈরি করে বেঁচে আছেন। তবুও তাদের দারিদ্র্য কমেনি।
দু’দশক ধরে ওই এলাকার অধিকাংশ বাদ্যকর পরিবারের সদস্যরা তালপাখা তৈরির কাজে ঝুঁকে পড়েছেন। দেখা গেছে, ঘরে বসে পাখা তৈরির কাজ নারীরা করছেন, আর বিক্রির দিকটা দেখেন পরিবারের ছেলেরা। এ গ্রামের ৯৭টির মতো পরিবারের জীবিকা এখন তালপাখার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে কেউ পাখা বানাচ্ছেন, কেউবা তালপাতা ও বাঁশ সংগ্রহ করছেন। হাসেম খলিফা এ গ্রামেরই বাসিন্দা, বয়স ষাটের ওপর। প্রায় ১৫ বছর ধরে তার পরিবার পাখা বানানোর কাজ করছেন। তিনি জানান, ‘পাখা বানানোর কাজে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়। আমার পরিবারের মেয়েদের কারণেই আমরা এখনও এ কাজ চালিয়ে যেতে পারছি। কিন্তু ২০০৭ সালে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডরে গাছপালা উপড়ে যাওয়ার পর পাখার উপকরণ তালপাতার সঙ্কট দেখা দেয়, ফলে দামও বেড়ে যায় অনেকটা। তারপর থেকে গৌরনদীসহ আশাপাশের উপজেলা ঘুরে অনেক খুঁজে বেশি দামে তালপাতা ও বাঁশ কিনতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ওই গ্রামের অন্যদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, তারা বছরের নয় মাসই পাখা বানানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। হাসেমের পরিবারের সাত সদস্যই এ কাজ করেন। পাখা বানিয়েই পরিবারটি চলছে। তার দুই মেয়ে শিমু আক্তার ও কাজল দুজনই স্কুলে পড়ে, শিমু অষ্টম ও কাজল সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। স্কুল থেকে ফিরেই তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে পাখা বানানোর কাজে যোগ দেয়। প্রতিদিন তারা প্রত্যেকে ২১টির মতো পাখা তৈরি করে।
জানা গেছে, একটা পাখা তৈরিতে তাদের খরচ হয় দুই টাকা আর পাইকারের কাছে তা বিক্রি করছেন তিন টাকায়।
আরেক শব্দকর কাসেম খলিফা জানালেন সপ্তাহে একদিন পাইকার এসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে পাখা কিনে নিয়ে যান। এসব পাখা বিক্রি হয় মূলত দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন মেলা, হাট-বাজারে, বাস স্ট্যান্ডে ও বিভিন্ন দোকানে। কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়াতে অনেক পরিবার পাখা বানানো ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। হস্তশিল্প নির্মাণের এ দক্ষতা যাতে পরিবারগুলো ধরে রাখতে পারে সেজন্য দরকার পৃষ্ঠপোষকতা। পরিবারগুলো বিশেষ করে সুদমুক্ত ঋণের ওপর জোর দিলেন। চাঁদশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কৃষ্ণকান্ত দে জানান, ‘বাদ্যকররা অনেক পরিশ্রমী, তাদের হস্তশিল্পের কাজও নিপুণ। এ কাজে টিকে থাকতে হলে এদের এখন উপযুক্ত সহযোগিতা প্রয়োজন ।
