বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী : তোফায়েল

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৫, ১৯:৪৪
 
 
 
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ এবং অর্জিত সাফল্যে ইউনাইটেড স্টেট ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ (ইউএসটিআর) সন্তোষ প্রকাশ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ক্রেতাগোষ্টির দেওয়া ১৬ দফা শর্ত পূরণের অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট ও বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যাপারেও তারা আগ্রহী। 
 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ ক্ষেত্রে চলমান সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে উভয় দেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সম্মত।
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বেড়েই চলছে। বিগত তিনমাসের রাজনৈতিক অস্থিরতায় কোন কারখানা বন্ধ হয়নি। জিডিপির প্রবৃদ্ধিও ৬ ভাগের বেশি থাকবে।
 
বাণিজ্যমন্ত্রী মন্ত্রী সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া এস. বি. বার্নিকটে’র সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে একথা বলেন। 
 
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ সরকার তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের কর্মবান্ধব ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। শুল্কমুক্ত ফায়ার সেফটি ডোর আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কারখানার বিল্ডিং সেফটি, ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার সফলতার সাথে ক্রেতাগোষ্টির দেওয়া এ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করেছে।
 
ক্রেতাদের সংগঠন এ্যাকোর্ড এবং এ্যালায়েন্স এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার কারখানা বিল্ডিং পরিদর্শন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরমধ্যে মাত্র ২৯ টি কারখানা ভবন ব্যবহার অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে, সেগুলো তাৎক্ষণিক ভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আনুপাতিক হারে এর সংখ্যা শতকরা দু‘ভাগের কম। যা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য।
 
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তৈরী পোশাক কারখানার পরিবেশ ও শ্রম অধিকার নিয়ে ইউএস এইড এবং ইউকে এইড-এর অর্থায়নে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। এতে দেখা গেছে, তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বর্তমান কাজের পরিবেশে ও প্রাপ্ত মজুরিতে সন্তুষ্ট এবং তারা নিজেদের কারখানার শ্রমিকদের মধ্যহতে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে আগ্রহী। 
 
তোফায়েল আহমেদ বলেন, অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে দেশে-বিদেশে অনেক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার হয়েছে। যারা অপপ্রচার চালিয়েছেন, তারা কেউ বাংলাদেশের কোন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক নন। যে কোন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানা পরিদর্শন করলেই এর প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।
 
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত সচিব(রপ্তানি) মো. শওকত আলী ওয়ারেছী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
 
পরে মন্ত্রী ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার এ. নিকোলেভ এবং রাশিয়ান ফেডারেশনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এস এম সাইফুল হক-এর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।