গাজায় ইসরাইলের হত্যাকাণ্ড যুদ্ধাপরাধের শামিল :জাতিসংঘ

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ২২:১০

গাজা সীমান্তে গত বছর বিক্ষোভের সময় ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ১৮৯ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন।

২০১৮ সালের ৩০ মার্চ থেকে ৩১ ডিসেম্বর সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের গঠিত স্বাধীন একটি তদন্ত কমিশন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি হত্যার জন্য যারা দায়ী বলে কমিশন মনে করে সেইসব স্নাইপার এবং কমান্ডারদের সম্পর্কে তাদের কাছে গোপন তথ্য আছে। এতে আরো বলা হয়, “ইসরাইলি বাহিনী যে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছুঁড়ে তাদের হত্যা কিংবা জখম করেছে তারা অন্য কারো জন্য মারাত্মক কোনো হুমকি ছিল না। এমনকি তারা সরাসরি কোনো সংঘাতে জড়িতও হয়নি।” ইসরাইলের গাজা অবরোধ শিথিল করা এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের বাড়ি ফেরার অধিকারের স্বীকৃতির দাবিতে ইসরাইল-গাজা সীমান্তের সম্মুখভাগে বিক্ষোভ করছিল ফিলিস্তিনিরা। সেই বিক্ষোভেই গুলি চালিয়েছিল ইসরাইল।

তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, নিরস্ত্র প্রায় ৬ হাজার বিক্ষোভকারীর ওপর গুলি চালায় ইসরাইলের সামরিক স্নাইপাররা। বিক্ষোভের স্থানগুলোতে ১৮৯ ফিলিস্তিনির মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে কমিশন জানিয়েছে, তাজা গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ১৮৩ ফিলিস্তিনি। তাদের ৩৫ জনই শিশু, তিনজন চিকিত্সাকর্মী এবং দুইজন সাংবাদিক। তাছাড়া, কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনীর তাজা গুলিতে আহত হয়েছে আরো ৬ হাজার ১০৬ ফিলিস্তিনি। রাবার বুলেট কিংবা টিয়ার গ্যাসের শেলে আহত হয়েছে আরো ৩ হাজার ৯৮ ফিলিস্তিনি। নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের এভাবে হত্যা এবং জখম করা মানবাধিকারের পাশাপাশি মানবাধিকার আইনেরও মারাত্মক লঙ্ঘন এবং তা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলেই উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।