বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে যে ইতিবাচক দিকগুলো রয়েছে সেগুলোকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করার মাধ্যমে সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল সোমবার সাভারের খাগানে ব্রাক-সিডিএম সেন্টারে ৪র্থ আন্তর্জাতিক জনগণের স্বাস্থ্য সম্মেলন-২০১৮ এর সমাপনী অধিবেশনে বক্তারা এ কথা বলেন। এদিন মূল অধিবেশনসহ ৪টি উপ-অধিবেশন, বাংলাদেশ বিষয়ে একটি বিশেষ উপ-অধিবেশন এবং সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
মূল অধিবেশনের বিষয় ছিল- সবার জন্য স্বাস্থ্য কায়েমের লক্ষ্যে সংগঠন ও সমাবেশ: সংগ্রাম ও প্রতিরোধ। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সাব-সাহারান আফ্রিকার উন্নয়নকর্মী এমালিয়ানা টাপিয়া। আলোচক ছিলেন গ্রিসের এরিস্টটল ইউনিভার্সিটি অব থেসালোনকির অধ্যাপক ড. এলেক্সিজ বেনোজ, কলম্বিয়ার সহযোগী অধ্যাপক ড. রোমান ভেগা ও ভারতের অধিকারকর্মী শুলোকসানা নন্দী। বক্তারা সর্বজনীন স্বাস্থ্য লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনগণের পক্ষে মনিটরিং এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে সক্ষমতা অর্জনের বিষয়ে জোর প্রদান করেন। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি শীর্ষক উপ-অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন দ. আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথ এর সিনিয়র গবেষক নিক্কি এসচেয়। বক্তব্য রাখেন- ব্রাজিল এর স্বাস্থ্য আন্দোলন কর্মী মার্টা জিয়ানে টরেস, ভারতের স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী অভিজিত মোরে, এল সালভাদরের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মার্গারিটা পোসাডা। বক্তারা আলোচনায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং ওষুধ উত্পাদন ও বিপণনে ভোক্তা স্বার্থ যাতে রক্ষা হয় সে বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগী হতে জনগণকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ বিষয়ে বিশেষ উপ-অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন, গণবিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. কাসেম চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. এম মুশতাক হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিকিত্সা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. রশিদ-ই মাহবুব। ড. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, ওষুধ উত্পাদন করায় বাংলাদেশে ওষুধের দাম অনেক দেশের চেয়ে কম। চিকিত্সকসহ যে রিসোর্স রয়েছে তা ঠিক মতো ব্যবহার করতে পারলে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবার লক্ষ্য বাংলাদেশের অর্জন তেমন কঠিন হওয়ার কথা নয়। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতকে রাজনৈতিক এজেন্ডায় গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয় না। অথচ স্বাস্থ্যখাতকে রাজনৈতিক এজেন্ডায় গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর জনগণের আরও কাছে যাওয়ার সুযোগ সবচেয়ে বেশি।
