গানে কথায় টেগোর অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি উদযাপন করলো ছায়ানট। গতকাল শুক্রবার ছায়ানটের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুন বলেন, ওই অনুষ্ঠানে আমি ছায়ানটের অতীতের কণ্টকাকীর্ণ পথচলার কথা বলেছি। বলতে হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের গৌরবগাথাময় সাংস্কৃতিক অভিযাত্রার কথা। ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে বলেছি, রবীন্দ্রনাথের জীবন দর্শনের পথরেখায় সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে মানুষে মানুষে সম্প্রীতি রচনার অনুসারী আমরা। ১৯৫৬ সালে উর্দুর সঙ্গে বাংলাকে রাজভাষা করা হলেও নানাভাবে চলেছে পাক সরকারের আগ্রাসন। কিন্তু তারা এদেশের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ উদ্্যাপনের মাধ্যমে আমরা সরকারের চরম শত্রুতে পরিণত হই। মূলত আমরা সংস্কৃতির আশ্রয়ে এদেশের মানুষের স্বাধিকারের কথা বলতে চেয়েছি। ১৯৬৭ সালের পয়লা বৈশাখে নববর্ষ উদ্্যাপনের মাধ্যমে আমরা সে কথারই জানান দিয়েছি। পরিশেষে তিনি বলেন, রবীন্দ্র নামাঙ্কিত এ পুরস্কার নতুনভাবে অনুপ্রেরণা জাগাবে ছায়ানটকে।
ভারত সরকার প্রদত্ত আন্তর্জাতিক সম্মাননা ‘টেগোর অ্যাওয়ার্ড ফর কালচারাল হারমোনি’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছে ছায়ানট। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লির প্রবাসী ভারতীয় কেন্দ্রে দেশটির রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ ছায়ানট সভাপতি সন্্জীদা খাতুনের হাতে তুলে দেন সেই সম্মাননা। সেই প্রাপ্তির উদ্যাপন হলো গতকাল শুক্রবার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী। আরও বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আবুল হাসনাত। অতিথ কথনে অংশ নেন ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক নীপা চৌধুরী।
সারওয়ার আলী বলেন, ছায়ানটের এ অর্জন সবার। আজ স্মরণ করছি সুফিয়া কামাল, ওয়াহিদুল হকদের কথা— যারা সন্্জীদা খাতুনের সঙ্গে মিলিতভাবে ছায়ানটের পথরেখা বিনির্মাণ করেছিলেন। তাই এ অর্জন ছায়ানটের একার নয়, পাকিস্তান আমল থেকে এ পর্যন্ত যারা ছায়ানটের সঙ্গে ছিলেন তাদের সবার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ছায়ানটের প্রাক্তন ছাত্রী ছিলেন। আজ ছায়ানট যে জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে ১৯৯৬ সালে তিনি এটি দান করেছিলেন। তাই ছায়ানটের টেগোর অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তির অর্জন শেখ হাসিনারও। আলোচনা শেষে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
