ব্যবসা-বাণিজ্যে ‘আস্থা’ কমলেও সেটি আবার ফিরতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা, অবকাঠামো দুর্বলতাসহ নানামুখী কারণে তারা বিনিয়োগের আস্থা পাননি। আগামী মাসগুলোতে এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তারা। অবশ্য গত বছরের শেষ ছয় মাসে প্রত্যাশার তুলনায় বিনিয়োগ কম হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিল্ড (বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট) এর সামপ্রতিক এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
গতকাল মতিঝিলের ঢাকা চেম্বার অফিসে জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামের উত্পাদন ও সেবা খাতের ৪০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর এ জরিপ চালানো হয়। গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলের সাথে গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জরিপের ফলাফলের তুলনায় ব্যবসায়ীদের আস্থার ঘাটতির বিষয়টি উঠে আসে। তবে সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের আস্থা অতীতের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের (ডিসিসিআই) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘গত ৪০ বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখে আসছি। এর মধ্যে থেকেই ব্যবসা করে আসছি। গত তিন মাসের বড় রকমের অস্থিরতায়ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়েছি। আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তবে আশা করছি এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
জরিপ প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন ‘বিল্ড’ এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম। জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত জুলাই থেকে ডিসেম্বরে ব্যবসায়ীদের আস্থার সূচক ছিল ৯ দশমিক ৩৫। আর গত জানুয়ারি থেকে আগামী জুন নাগাদ এই আস্থার পরিমাণ সামান্য বাড়বে (৯ দশমিক ৩৭) বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন। অবশ্য গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই আস্থার সূচক বেশ খানিকটা উপরে ছিল। তবে গত জুলাই থেকে ডিসেম্বরে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসেনি। আলোচ্য সময়ে ৪৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বিনিয়োগের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে বিনিয়োগ করেছেন ২৮ শতাংশ।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এছাড়া বিদ্যুতের দাম, পরিবহন ব্যবস্থা ও ব্যয়, দুর্নীতি, ব্যাংকের সুদের হার, জ্বালানি তেলের দাম ও ব্যবসায়ের উপর করের হার নিয়েও তাদের উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো দুর্বলতা, অর্থায়ন, আইনগত ও ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং বিদ্যমান নিয়মনীতি নিয়ে তাদের আস্থার ঘাটতি রয়েছে।
তবে শ্রমিক মালিক সম্পর্কের উন্নতি, কর্মসংস্থান, বাণিজ্যিক সুযোগ, যোগাযোগ, বিদ্যুত্ ও পানির সরবরাহ ও ইন্টারনেট সংযোগসহ কয়েকটি বিষয়কে ব্যবসায়ীরা অতীতের চেয়ে বেশি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
জরিপে অংশ নেয় খাদ্য, বস্ত্র খাত, গার্মেন্টস, চামড়া, ওষুধ ও কেমিক্যাল, ইলেক্ট্রনিক্স ও হালকা প্রকৌশল খাত, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, হোটেল রেস্তোরাঁ, পরিবহন, আবাসন ও তথ্য প্রযুক্তি খাতের ৪০০ প্রতিষ্ঠান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম বলেন, নতুন ব্যবসা আসছে। তবে সমস্যা হলো দুর্নীতি আর অবকাঠামোর দুর্বলতা। এগুলো ঠিক হলে বিনিয়োগ আরো বাড়বে।
এ সময় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট-ট্যাক্সের হারসহ নানামুখী সমস্যা তুলে ধরেন। এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, কর ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা না আসলে ব্যবসায়ীদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হচ্ছে। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিল্ড এর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি অমিতাভ চক্রবর্তী।
