প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় ও সেনা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ১

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ২২:২৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় ও গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরত ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে জিএ সাজ্জাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর উত্তরা-১২ নম্বর সেক্টরের পার্ক এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।

র্যাব-৩ সূত্র জানায়, সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে রাজনীতিবিদ, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের ভয় দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বেশ কিছু অভিযোগ পায় র্যাব। একসময় তিনি ঢাকা সেনানিবাস সংলগ্ন ভাষানটেক এলাকায় থাকতেন। তখন তিনি এলাকার বিভিন্ন প্রকল্পে ইট-বালু সরবরাহ করতেন। দীর্ঘদিন ওই এলাকায় বসবাস ও ব্যবসার একপর্যায়ে তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর হিসেবে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। এই পরিচয়ে তিনি বিভিন্ন অফিসে গিয়ে তদবির করেন এবং স্থানীয় ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর হওয়ার সুবাদে একসময় তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ভাগ্নে পরিচয়ে প্রতারণা শুরু করেন। তিন-চার বছর বিভিন্ন জায়গায় এই পরিচয় ব্যবহার করায় কিছু লোক তা বিশ্বাসও করে। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কিছু ব্যক্তিকে টার্গেট করে তাদের সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করেন সাজ্জাদ। এক পর্যায়ে তিনি ডিজিএফআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জানান, সুনির্দিষ্ট গোপনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মনোনয়ন বোর্ড তাদের মনোনয়ন নাও দিতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় ও ডিজিএফআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে তিনি প্রতিবেদনগুলো ইতিবাচক করে দিতে পারবেন। তবে এর জন্য তাকে দিতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা। এভাবে তিনি বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন।