নির্বাচনী আচরণবিধি না মানার মাত্রা দিনদিন বেড়েই চলেছে। নির্বাচন কমিশন কারণ দর্শানো নোটিস ও সর্তক করে যেন দায়িত্ব শেষ করছে। তবে একাধিক ঘটনায় জরিমানা ও মালামাল জব্ধ করেছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৪টি ভিজিল্যান্স টিম আচরণবিধি দেখার দায়িত্বে মাঠে রয়েছে বলা হলেও তেমন একটা কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলেই সংশ্লিষ্টদের অভিমত। এর সাথে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একাধিকবার পুলিশ কমিশনারকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হলেও তার কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। প্রতিনিয়ত রিটার্নিং অফিসে অভিযোগ জমা পড়লেও কোনরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের আলামত দেখছে না বলে অভিযোগকারীগণ জানান।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ইতিমধ্যে অর্ধশতাধিক নোটিশ ও সর্তক বার্তা পাঠালেও আচরণবিধি লংঘন থেমে নেই। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলম তার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার বিরাট যানবাহনের বহর দিয়ে শুরু করলে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেয়ার নোটিস দেয়া হয়। তার পক্ষ থেকে মার্জনা চাওয়ার পর তাকে রেহাই দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকেও লোক সমাগম, মিছিল ও যানবাহন ব্যবহারের কারণে নোটিস দিয়ে পরবর্তীতে সতর্ক করে দেয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবারই ৬টি অভিযোগ রিটার্নিং কার্যালয়ে দায়ের করা হয়। এগুলো তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে ১৩নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের এক কাউন্সিলর প্রার্থী স্ত্রীসহ আত্মীয়-স্বজনকে বাধা প্রদান ও হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়। এমনকি অভিযোগ দায়ের পর বাসায় ফিরতে গেলে বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ করা হয়। এ সময় পুলিশের সাহায্য চাইলেও পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সভা-সমাবেশ, যানবাহন নিয়ে মহড়া ও মিছিল করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অধিকাংশ প্রার্থীই তা পালন করছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সকাল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত মাইকে প্রচার চালানোর অহরহ ঘটনা ঘটছে বলে জানা যায়। অর্থ ব্যয়ের প্রতিযোগিতা বিভিন্ন প্রার্থীর প্রচারণার ধরণ দেখে অনুমান করা যায় বলে অনেক প্রার্থীর অভিযোগ। প্রভাবশালী প্রার্থীদের প্রতিনিয়ত বিশাল অংকের অর্থ ব্যয়ের কাজে সাধারণ প্রার্থীরা টিকে থাকতে পারছে না। স্বয়ং সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, এভাবে টাকার খেলা চললে আগামীতে সত্ ও যোগ্য লোকজন আসতে পারবে না।
প্রচার-প্রচারণায় নিয়ন্ত্রিত অর্থ ব্যয় করার কথা বললেও বাস্তবে তার উল্টো ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। কয়েকজন মেয়র প্রার্থীর পোস্টার ব্যানার, মাইকিং, যানবাহন ব্যবহার এক প্রকার অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলছে বলে অনেকের অভিযোগ। নির্বাচন আচরণ বিধির সাথে এ সকল কর্মকাণ্ড কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ তা অনেকের বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে আচরণবিধি না মানার প্রবণতা যেন বেড়েই চলেছে। এ পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে ৬০টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা যায়। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় কারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন, কারা পারবেন না সে নিষেধাজ্ঞাও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।