ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, তেহরানের সামরিক কৌশল সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং একে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি হুমকি হিসেবে দেখা উচিত হবে না। সৌদি আরবের সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি শনিবার একথা বলেন।
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা চালানোয় ইরানের সুন্নি প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াদের সাথে এ অঞ্চলের প্রভাবশালী শিয়া শক্তি তেহরানের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এদিকে রাশিয়া এ সপ্তাহে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের পদক্ষেপ নিয়েছে।
সৌদি আরব ইয়েমেনের জায়িদি শিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হুথি বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেয়ার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।
ইরান তাদের বিরুদ্ধে হুথিদের অস্ত্র দেয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সৌদি আরবের নেতৃত্বে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বিমান হামলা বন্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। ইরান ইয়েমেনের জন্য একটি চার দফা শান্তি পরিকল্পনা জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পেশ করেছে।
রুহানি বলেন, ইরানের সামরিক কৌশল ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। রাজধানীতে বার্ষিক সেনা দিবসের এক অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমাদের সামরিক কৌশল সর্বদা নিবারণমূলক, যুদ্ধমূলক নয়।’ সেখানে সেনা দিবসে ইরানের তৈরি বাভার-৩৭৩ নামের নতুন ক্ষেপনাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রতিবেশী দেশগুলো ও সমুদ্রে নৌচলাচল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পারস্য উপসাগর ও এডেন উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন করা হয়। সশস্ত্র বাহিনী দেশের ও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জনগণের শান্তি রক্ষা করছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে আকাশ প্রতিরক্ষামূলক অত্যাধুনিক এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর থেকে তুলে নেয়। এতে দীর্ঘ বিলম্বিত একটি চুক্তির পথ সুগম হলো।
ইরান জানায়, দেশে প্রস্তুত বাভার-৩৭৩ ক্ষেপনাস্ত্র এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্রের মতোই শক্তিশালী।
