শিক্ষক শিক্ষার্থী-মহানগর আওয়ামী লীগ মুখোমুখি

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৫, ০১:৪০
উপাচার্যকে ‘অপমান’ ও ‘হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। নিন্দা ও প্রতিবাদ ছাড়াও স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিবৃতি দিচ্ছেন। অন্যদিকে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির তোষণ, এমনকি শিক্ষক পদে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসনের পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর কুমারপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহফুজুল আলম লোটন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।
 
লিখিত বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, উপাচার্য পদে যোগদানের পর ড. মিজানউদ্দিন বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের চিহ্নিত ১০ জনকে পরিসংখ্যান, ইংরেজী, ফোকলোর, ফলিত রসায়ন, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক পদে চাকরি দিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সক্রিয় নেতা ও ক্যাডার। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতপন্থি দুইজন সাবেক উপাচার্যের ছেলে ও মেয়ে, বিএনপিপন্থি প্যানেলের দুইজন শিক্ষকের স্ত্রী, একজন শিক্ষকের ছেলে, একজন শিক্ষকের মেয়েকে শিক্ষক পদে চাকরি দিয়েছেন।
 
এদিকে গত ১৫ ও ১৬ এপ্রিল উপাচার্যের কার্যালয়ের ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এদিন পৃথক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ ও নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক এসএম এক্সাম উল্লাহ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্র্রাধ্যক্ষ পরিষদ মনে করে ওইসব ঘটনা প্রচলিত বিধি-বিধান ও রীতিনীতির ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ।
 
এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের বিএনপি ও জামায়াত-শিবির তোষণ এবং শিক্ষক পদে চাকরি দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন শনিবার ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘নিয়োগের বিষয়টি কমিটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান মেনে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে উপাচার্যের একক কোনো ক্ষমতা বা হাত নেই।
 

এদিকে, সাত দফা দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে রাবি প্রশাসন ভবনে উপাচার্যের দপ্তরে এই স্মারকলিপি দেয়া হয়। সাত দফা দাবি হচ্ছে- পরীক্ষায় বিশেষ বিবেচনায় ৫ নম্বর গ্রেস দেয়া, শিক্ষার্থীদের জন্য ছাউনি নির্মাণ ও বাস টার্মিনালের উন্নয়ন, বৃক্ষনিধন বন্ধ করে ক্যাম্পাস জুড়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু, মিথ্যা মামলায় আটক প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, আবাসিক হল তল্লাশির সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসে পুলিশের থানা স্থাপন বন্ধ এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আনোয়ার হোসেনের নিয়োগ বাতিল করা।