ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা তাদের প্রচার প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অভিযোগ করছেন তাদেরকে প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্যও চাপ দেয়া হচ্ছে। এদিকে বিভিন্ন পদে ৫৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচত হতে যাচ্ছেন যারা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগ সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বৈধ প্রার্থীদের তালিকা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, হল সংসদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ৫৪ জন। এর মধ্যে এজিএস পদে ৩ জন, সম্পাদকীয় পদে ২৮ জন এবং সদস্য পদে ২৩ জন রয়েছেন। ১৮টি হলে ১৩টি করে মোট ২৩৪টি পদ রয়েছে। ফলে হল সংসদে ১৮৪টি পদে নির্বাচন হচ্ছে। যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এদের প্রায় সবাই ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন। প্রকাশিত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন- অমর একুশে হল পাঠকক্ষ সম্পাদক তারেকুল ইসলাম, সূর্যসেন হলের পাঠকক্ষ সম্পাদক রেজওয়ানুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক সাব্বির হাসান সৌরভ, স্যার এ এফ রহমান হলে বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন, শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক হলে সাহিত্য সম্পাদক কামাল উদ্দীন রানা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাকিল আহমেদ, ইনডোর গেমস সম্পাদক মো. সোহেল রহমান, আউটডোর গেমস সম্পাদক আনন্দ ফকির, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল মমিন, কবি জসীম উদ্দীন হলের সংস্কৃতি সম্পাদক ইমাম-উল-হাসান, পাঠকক্ষ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক জাহিদ হাসান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার হাসান, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক মো. মুনতাছির মমতাজ, বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাছান, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক পদে শাহরিয়ার সনেট, ফজলুল হক মুসলিম হলের সংস্কৃতি সম্পাদক মাসুম মিয়া, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের পাঠকক্ষ সম্পাদক মো. শামসুর রহমান সুইট, বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক ইমরান হোসেন, বিজয় একাত্তর হলের অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক সুজন শেখ, বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক বনী ইয়ামিন, শামসুন্নাহার হলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আয়শা আক্তার সুমি, পাঠকক্ষ সম্পাদক বিশাখা দাস ইরা, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের রিডিংরুম সম্পাদক সানজিনা ইয়াসমিন, সমাজসেবা সম্পাদক ইসরাত জাহান, বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক পাপিয়া আক্তার, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক রিয়া আক্তার শান্তা, সদস্য পদে রুবাইয়া আক্তার, জান্নাতুল তাজরীন, ইসমত আরেফিন আলো, সুফিয়া কামাল হল সংস্কৃতি সম্পাদক প্রিয়াংকা দে, পাঠকক্ষ সম্পাদক ফারহানা শাফরীন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ
স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বলছেন, ছাত্রলীগ নেতারা বিভিন্ন হলে গিয়ে তাদেরকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে না নিলে মারধর করে হল ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছেন। একটি হলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেন, ‘ছাত্রলীগের দুইজন শীর্ষ নেতা হলে এসে আমাকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে আদেশ করে এবং বলে ‘ছাত্রলীগ থাকতে কিসের স্বতন্ত্র প্রার্থী?’ এসময় তার সাথে অভদ্র এবং অশোভন আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসু নির্বাচনের চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, আমার কাছে এধরনের কোন অভিযোগ এখনো আসেনি। প্রার্থীরা যদি লিখিত অভিযোগ করে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্যই ব্যাবস্থা নেন।
আপিলে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন ৫ জন
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্য থেকে আপিল করা ৫ জনই তাদের প্রার্থীতা ফিরে পাচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার ডাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে বুধবার প্রকাশিত তালিকায় সাতজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজন প্রার্থীতা ফিরে পেতে আপিল করেন।
