অধিকাংশ মানুষই গত্বাঁধা জীবনে অভ্যস্ত। গতানুগতিক জীবনধারা থেকে বেরিয়ে এসে কিছুটা অন্যরকমভাবে জীবনটা পরিচালিত করার ইচ্ছা আমাদের অনেকের মধ্যেই মাঝে মাঝে জেগে উঠলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা আর হয়ে ওঠে না। মনের ইচ্ছা মনেই থেকে যায়। কিন্তু এমন মানুষও আছে যারা কোনো অদ্ভুত খেয়াল মনে চেপে বসলে তা পূরণ করে ছাড়ে। এমন কিছু আজব ধরনের খেয়ালী মানুষের কথাই তুলে ধরেছেন আশেক খান আলেখীন
ইন্টারনেটবিহীন একটি বছর
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েব ডিজাইনার পল মিলার ১২ বছর বয়সে ইন্টারনেটের জগতে পা রাখেন এবং যথারীতি তাতে বুদ হয়ে যান। ১৪ বছর বয়সে তিনি ওয়েব ডিজাইনের কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন এবং পেশাগতভাবে ওয়েবসাইট তৈরির কাজও শুরু করে দেন। এভাবেই কেটে যায় দীর্ঘ এক যুগ। ২৬ বছরে পা দেয়ার পর মিলারের মনে হলো তার জীবনটা ‘ওয়েবাক্রান্ত’ হয়ে পড়েছে, ইন্টারনেট তার জীবন থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন ইন্টারনেট থেকে এক বছরের জন্য স্বেচ্ছা নির্বাসনে যাওয়ার। যেই ভাবা, সেই কাজ। মিলার খুলে ফেললেন তার ঘরের সব ইন্টারনেট সংযোগ। পরবর্তী একটি বছর উপভোগ করলেন ‘ইন্টারনেটবিহীন জীবন’। পরে এর উপর একটি ছোট ডকুমেন্টারিও বানিয়ে ফেলেন তিনি।
চিনি ছাড়া ৭ বছর
চিনি বা মিষ্টি পছন্দ করেন না, এমন লোক খুঁজে পাওয়া কষ্টকর, আবার ডায়াবেটিস, মেদ সমস্যা, দাঁতের রোগের কারণে চিনিকে ভয় পেয়েও চলেন অনেকে। কিন্তু মুশকিল হলো চিনি থেকে দূরে থাকা খুব সহজ কাজ নয়। কারণ বাজারে এমন খাবার খুব কমই আছে যাতে চিনি নেই। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী ২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে বেছে নিলেন ‘চিনিবিহীন জীবন’। আর সম্পূর্ণ চিনিমুক্ত খাবার তৈরির বেশ কিছু রেসিপিও দিয়ে দিলেন তার ব্লগে।
টাকা ছাড়া কেটে গেল ১৬টি বছর
জার্মানির মহিলা হিদারম্যারি শোয়েমনারের জন্ম এক ধনাঢ্য কফি ব্যবসায়ীর পরিবারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার পরিবার হয় সর্বস্বান্ত। এরপর নানা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে কেটে যায় হিদারের জীবন। অর্থই যে অনর্থের মূল- এ কথা তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন। ৫০ বছরে পা দিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এখন থেকে তিনি নগদ টাকা ছাড়াই বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেবেন। এরপর তিনি তার অ্যাপার্টমেন্টসহ সবকিছু ছেড়ে-ছুঁড়ে পথে বেরিয়ে পড়েন, সাথে থাকে কেবল ছোট একটি সুটকেস। জীবিকার জন্য তিনি অবলম্বন করেন প্রাচীন বার্টার পদ্ধতি। অর্থাত্ জিনিসের বদলে জিনিস দেয়া নেয়া। আর শ্রোতাদের সামনে অর্থবিহীন জীবনের মর্মার্থ বয়ান করেও তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা ঠিকই করে ফেলেন তিনি। এভাবেই তিনি কাটিয়ে দেন ১৬টি বছর। সমপ্রতি তার উপর একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছে।
সভ্য সমাজ ত্যাগ করে জঙ্গলে বসবাস
যুক্তরাষ্ট্রের ড্যানিয়েল সুয়েলোও বেছে নিয়েছেন নগদ অর্থবিহীন জীবন। শুধু তাই নয়, তিনি অর্থের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সভ্য সমাজের আরাম আয়েশ ত্যাগ করে আশ্রয় নিয়েছেন উটাহ’র গহীন জঙ্গলে। এমনকি তিনি জার্মানির মহিলা হিদারম্যারির মতো বার্টার পদ্ধতিরও ধার ধারেননি, কারও সাহায্য-সহযোগিতারও তোয়াক্কা করেননি। তবে অনেকের মতো তিনিও কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ছাড়তে পারেননি। অর্থের মিছে মায়ায় না পড়ার আহবান জানিয়ে ইন্টারনেটে নিয়মিত ব্লগ লিখে যাচ্ছেন আর তার সেই ‘জংলী’ ব্লগের সদস্য খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
ভারতীয় যোগী ৭৩ বছর ধরে বেঁচে আছেন খাবার ও পানি ছাড়াই !
ভারতীয় যোগী প্রহ্লাদ জোনি’র দাবি- তিনি কোনো খাবার ও পানি ছাড়াই বেঁচে আছেন গত ৭৩ বছর। চুড়িওয়ালা মাতাজি নামে খ্যাত এই যোগী বলেছেন, তার বয়স যখন ১২ তখন থেকেই খাবার ও পানি গ্রহণ বন্ধ করে দেন। বেছে নেন সন্ন্যাস জীবন। একটি গুহায় গিয়ে বসে পড়েন ধ্যানে। ৮৫ বছর বয়সী এই যোগীর অধিকাংশ সময়ই কেটে যায় ধ্যান করে। তার এই পানাহারবিহীন জীবনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ২০০৩ ও ২০১০ সালে দু’দফা পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন ভারতীয় এক হাসপাতালের ডাক্তাররা। প্রথমবার পরীক্ষায় একটা বদ্ধ শূন্য ঘরে যোগীকে আবদ্ধ রাখা হয় ১০ দিন আর দ্বিতীয়বার রাখা হয় ১৫ দিন। দেখা গেল সত্যিই তিনি খাবার ও পানি ছাড়াই দিব্যি ধ্যান করে কাটিয়ে দিলেন এতগুলো দিন। বস্তুবাদী মানুষের পক্ষে বিষয়টা মেনে নেয়া সহজ ছিল না। এজন্য কোনো সাইন্টিফিক জার্নালেও তা আজও প্রকাশিত হয়নি। বর্তমানে সেই যোগী আছেন তার সেই পুরনো গুহাতেই। ধ্যানস্থ সেই যোগী জানেনও না তাকে নিয়ে বাইরের জগতে কী বিতর্কই না চলছে।
