পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সন্দেহভাজন সদস্যকে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝাড়খণ্ড রাজ্য পুলিশের প্রধান ডিকে পান্ডে রবিবার এই তথ্য জানিয়েছেন।
পান্ডে জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতের নাম ইব্রাহিম শেখ ওরফে লাল মোহাম্মদ (৩০)। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও বাংলাদেশ লাগোয়া তিলভিটা রেলস্টেশন থেকে আসার সময় ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করা হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইব্রাহিমের কাছ থেকে একটি রিভলবার, ছয়টি গুলি, চারটি বোমা এবং একটি ইলেকট্রনিক চিপ পাওয়া গেছে।
পাকুর জেলার এসপি অনুপ বার্থারি বলেছেন, ‘ইব্রাহিম ভারতে জেএমবির অপারেশনের প্রধান সাজিদ শেখের ডান হাত ছিলেন। গত বছর নভেম্বরে সাজিদ গ্রেফতার হওয়ার পর ভারতে জেএমবির কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার দায়িত্ব পান ইব্রাহিম।’
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইব্রাহিম ঝাড়খণ্ডের জেএমবির প্রধান নিয়োগকারী হিসেবে কাজ করতেন।এছাড়া ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিম বাংলার সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন এবং বাংলাদেশের জেএমমি নেতাদের সাথে যোগাযোগের একটি মূল সূত্র হিসেবে কাজ করতেন।
অনুপ বার্থারি বলেছেন, ‘ ইব্রাহিম একসময় মুর্শিদাবাদে ‘ফাতিমা-উল-জাহরা’ নামে একটি মাদ্রাসা চালাতেন। বিভিন্ন স্থান থেকে জেএমবির কর্মী সংগ্রহের পর সেখানেই প্রশিক্ষণ দেয়া হতো।’
তিনি বলেছেন, ইব্রাহিম ঝাড়খণ্ড থেকেও জেএমবির জন্য বহু কর্মী সংগ্রহ করেছেন।
২০১৪ সালের অক্টোবরে বর্ধমানের খাগড়াগড়ের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে পরপরই ভারতের দ্য ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি পলাতক ইব্রাহিমকে খুঁজছিল। গত জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ডের সীমান্তের সাহেবগঞ্জ জেলার রেলস্টেশন থেকে রেজাউল শেখ নামে এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ।
এই হামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি রয়েছে।
