দলের উন্নতিতে মুগ্ধ পাপন

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৫, ১৬:৩৪
 
টেলিভিশন ক্যামেরায় বারবার তার উজ্জ্বল মুখটা দেখানো হচ্ছিলো। মুখ উজ্জ্বলই হওয়ার কথা। গত কয়েক মাসে জাতীয় ক্রিকেট দল অনেক আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে দেখতে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলছিলেন, খেলোয়াড়দের এই উন্নতিতে মুগ্ধ তিনি।
 
পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে পাপনের মতে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো, দল হিসেবে বাংলাদেশের একটা নির্ভীক চেহারা সামনে আসা, ‘সিরিজ শুরুর আগে আমাদের প্রত্যেকেরই আশা ছিলো- আমরা ভালো খেলবো। ১৬ বছর ধরে যেটা পারিনি সেটা এবার অর্জন করতে পারবো। সেটাই হয়েছে। আমরা আহামরি তেমন কিছু করিনি। তবে আমাদের এই টিমটা অনেক ভালো। যেটা আমি আগেও আপনাদের বলেছি। এই টিমের মধ্যে মেজর একটা পরিবর্তন এসেছে, সেটা হলো এরা কাউকে ভয় পায় না।’
 
পাপন মনে করেন, এই সাফল্যের আসল রহস্যাটা হলো- দল এখন একক কোনো খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করছে না, ‘কোন ম্যাচে আমাদের ভালো খেলোয়াড়দের দুই-একজন ভালো করতে না পারলেও অন্যরা সেটা পুষিয়ে দিচ্ছে। আমার বিশ্বাস- এই ভাবে আমরা খেলতে পারলে শুধু র্যাংকিংই বাড়বে না। আন্তর্জাতিকভাবেও আমাদের ক্রিকেট আরো অনেক উপরে উঠে যাবে।’
 
পাকিস্তনের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে ক্রিকেটারদের কি কোন বোনাস দেয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে পাপন জানালেন, অবশ্যই দেয়া হবে। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের জন্য পাওনা বোনাসটার কথাও মনে করিয়ে দিলেন তিনি, ‘আসলে বোনাস তো আমরা সব সময়ই দিয়ে থাকি। তবে এই সিরিজ জয়টা হলে সেটা হবে অবিস্মরণীয়। কারণ পাকিস্তানের সাথে অল্পের জন্য হলেও অনেক সময় আমরা জিততে পারিনি। এবার ১৬ বছর পরে হলেও একটি ম্যাচে জিতেছি। সিরিজ জিততে পারলে বোর্ড থেকে একটা বোনাস দেয়া  হবে। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সসহ দুইটা এক সাথে বোনাস দিলে তারা বড় ধরনের একটা কিছু পাবে।’
 
ব্যক্তিগতভাবে বোর্ড সভাপতি মনে করেন, আগে যে কোনো সময়ের চেয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের সম্পর্কটা এখন সবচেয়ে ভালো। এটার প্রভাব পড়েছে বলেও তিনি মনে করেন, ‘আমরা খেলোয়াড়দের সাথে কতটা জড়িত তা আপনারা জানেন। অস্ট্রেলিয়ায় যেই সব সাংবাদিক গিয়েছেন তারা দেখেছেন। খাওয়া থেকে ঘুম পর্যন্ত আমরা সব সময় ওদের সমস্যা শুনেছি। এবং সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছি। তো আমরা একটা টিম ওয়ার্কের সাথে কাজ করছি। এবং প্রত্যেক খেলোয়াড় তার ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য সরাসরি আমার কাছে আসতে পারছে।’