রাজধানীর কাওরান বাজারে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে। ইট-ডাবের খোসা-লাঠিসোটা, রড নিয়ে হামলায় তার ব্যক্তিগত তিন জন নিরাপত্তা রক্ষীসহ ১০-১২ জন আহত হন। তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের (সিএসএফ) ব্যবহূত তিনটি গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়। আরো ৬-৭টি গাড়ি ভাংচুর হয়। হামলা ঠেকাতে গিয়ে এক সিএসএফ সদস্যের নাক ফেটে যায়। খালেদা জিয়া অক্ষত থাকলেও এক হামলাকারীর আক্রমণে তার গাড়ির গ্লাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় দায়িত্বরত সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয় হামলাকারীরা। তারা বেশ কয়েকটি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। হামলায় অন্তত চারজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। পরে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর বেইলি রোডের উদ্দেশে কাওরান বাজার ত্যাগ করে। পরে তিনি বেইলি রোড, মালিবাগ, শাহজাহানপুরের আমতলীতে গিয়ে মির্জা আব্বাসের পক্ষে তার প্রতীক মগ মার্কায় ভোটের প্রচারণা চালান।আহত ফারুক আহমদ, ফজলুল করিম এবং খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত অপর একটি গাড়ির চালক শাহেদকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইটের আঘাতে তারা আহত হন। এই হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আগামীকাল বুধবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়া সারাদেশে হরতাল ডেকেছে বিএনপি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ‘বাস’ এর পক্ষে তৃতীয় দিনের মতো প্রচারণায় নামেন খালেদা জিয়া। গতকাল পুলিশ ছিল না তার সঙ্গে।
কাওরান বাজারে বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। এ সময় সেখানকার ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি বাস প্রতীকের পক্ষে ভোট চান। কাওরান বাজারের কারুপল্লী ভবনের সামনে ৬টার দিকে তিনি গাড়ির দরজা খুলে হ্যান্ড মাইকে বক্তব্য রাখছিলেন। খালেদা জিয়া এ সময় বলেন, ‘চোরদের ভোট দেবেন না। আপনারা তাবিথ আউয়ালকে ভোট দেবেন।’ তিনি বলেন, এদেশ থেকে গণতন্ত্র উঠে গেছে। এখন মানুষের ভোটের অধিকার নেই।
তার বক্তব্যের মধ্যেই কাঁচা বাজারের দিক থেকে কালো পতাকা হাতে আমার ভাই মরলো কেন/খালেদা জিয়া জবাব চাই...প্রভৃতি শ্লোগান দিয়ে মিছিল শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যে মিছিলকারীদের সংখ্যা বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে আশপাশের বিভিন্ন ভবনের উপর থেকে ইট ছোঁড়া শুরু হয়। বেগম জিয়া তখন দ্রুত বক্তব্য শেষ করে গাড়িতে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। দ্রুত তার বহরের সব গাড়ি ঘুরে হাতিরঝিলমুখী হয়ে অগ্রসর হওয়ার মুহূর্তে এক দল লোক লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। ইট-ডাবের খোসা ছুঁড়তে থাকে। হামলায় বহরের প্রায় সব কটি গাড়ি কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, সিএসএফ এর সদস্যরা কালো পতাকাসহ তার জামার কলার ধরে টানাহ্যাঁচড়া করলে তার কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, অবরোধ-হরতালের জন্য ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ ছিল। কাওরান বাজারের ব্যবসায়ীরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে কালো পতাকা দেখানোর কর্মসূচি নিয়েছিল। এর মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে।”
এর আগে বাসা থেকে বের হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়ি বহর গুলশান-২, বনানী, মহাখালী ফ্লাইওভার হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়ক দিয়ে বিজয় সরণীর মোড়ে উপস্থিত হয় বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে। এরপর গাড়ি বহরটি ফার্মগেটের উদ্দেশে রওনা দেয়। সাড়ে ৫টার একটু আগে বহরটি কাওরান বাজারে উপস্থিত হয়। এরপর খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে গণসংযোগ শুরু করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে কাওরান বাজার এলাকায় হামলার পরও বাসায় না ফিরে বেগম খালেদা জিয়া বেইলীরোড-মালিবাগ এলাকায় মির্জা আব্বাসের পক্ষে প্রচারণা করেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মালিবাগ এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন। সেখান থেকে যান রাজারবাগ এলাকায়। সেখানে জনগণের কাছে মির্জা আব্বাসের পক্ষে ‘মগ’ মার্কায় ভোট চান।
পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের
সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
কাওরান বাজারে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ির বহরে হামলার ঘটনার পর সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নয়াপল্টনের সামনে ১০/১২টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫ জন পথচারী আহত হয়েছেন। তাদের নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে।