তরুণ নতুন লেখকরা উঠে আসছেন

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৬

দু’দিন বাড়ানো হলো মেলা, ভালো লাগল। অনেকেই বলার চেষ্টা করেছিলেন, রীতি ভাঙা ঠিক হবে না। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে রীতি ভাঙলে কোনো পক্ষই যে পরাজিত হন না, সেটা বইমেলার রীতি ভাঙা সিদ্ধান্তেই পরিষ্কার। শুক্র ও শনিবার আরো কিছু পাঠক ভালো বই কিনবে, আরো কিছু লেখকের বই বিক্রি হবে, আরো কিছু প্রকাশকের মুখে হাসি ফুটবে।

বইমেলায় বিভিন্ন স্টল বা প্যাভিলিয়নের বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টে, কিছু বই কিনে আমার  যে অভিজ্ঞতা হলো, তাতে কয়েকটা কথা বলা যায়।

এক. বইয়ের প্রচ্ছদ, বাইন্ডিংয়ের দিকে বুঝি এবার বেশিরভাগ প্রকাশকের নজর ছিল বেশি। চোখে খারাপ লাগে, এমন বই ছিল কম।

দুই. বইয়ের মান নিয়ে বরাবরের মতোই প্রশ্ন থেকে গেছে। বেশিরভাগ প্রকাশকেরই সম্পাদনা করে দেওয়ার মতো লোকবল নেই, কিংবা তারা মনেই করেন না, বইটি ঠিকভাবে                   যেন বের হয়, এ জন্য একজন সম্পাদকের প্রয়োজন আছে। তাই লেখক যা লিখলেন, সেটাই প্রুফ দেখিয়ে ফর্মা বানিয়ে বই তৈরি করে ফেলেন। সম্পাদক থাকাটা জরুরি।

তিন. নতুন নতুন লেখকের আবির্ভাব ঘটছে। পুরনোদের বই বিক্রির পাশাপাশি নতুন অনেকের বইও খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে। ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে যারা সক্রিয়, যাদের অনেকে চেনে, তাদের বই ভালো বিক্রি হচ্ছে।

চার. কাটতি দেখা যাচ্ছে ক্ল্যাসিক সাহিত্যের। রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ দাশ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সৈয়দ মুজতবা আলীরা এখনও টিকে আছেন। প্রবন্ধ, গবেষণা, জীবনীর বইয়ের প্রতিও অনেকের আগ্রহ আছে। আশি বা নব্বইয়ের দশকে কবিতার পাঠক ছিল অনেক, এখন বুঝি কম। সেভাবে কবিতার বইয়ের কথা তো শোনা যায় না। তবে তরুণ বেশ কিছু সংখ্যক কবির বইয়ের বিক্রি ভালো।  

পাঁচ. সফল হওয়ার পথ দেখানো বইগুলোর পাঠক অনেক। এখন অনেকেই সফল হওয়ার পথঘাট চিনিয়ে দিচ্ছেন পাঠককে। এ ধরনের বইয়ের ভিতরে কী আছে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ছাড়াই অনেকে বইগুলো কিনে নিচ্ছেন।

আমি নিজে এই বইমেলাকে উদ্দেশ্য করে বই লিখিনি। এবার বইমেলায় আমার যে বইগুলো প্রকাশিত হয়েছে, তার বেশিরভাগই দু’বছর বা তারও বেশি আগে থেকে লিখে রাখা শিশু-কিশোরদের জন্য। তাড়াহুড়ো করে লিখলে লেখার মান ভালো হয় না, অতৃপ্তি থেকে যায়। এবার মেলায় আমার লেখা একটি বই-ই কেবল বড়দের ‘তিন প্রেমিকার মায়াকোভ্?স্কি’। ছোটদের জন্য বই লেখা বা অনুবাদ করার ক্ষেত্রে আমি সবসময় নতুন কিছু বেছে নিই। এবার রুশ থেকে যে পাঁচটি রূপকথার বই অনুবাদ করেছি, তা সেরা রুশ লেখকদের লেখা। আমার মনে হয়, যারা অন্য ভাষা জানেন, তারা বেশি করে অনুবাদ করার দিকে মন দিলে ভালো হয়। সারা বিশ্বের মানুষের নান্দনিক ভাবনা জানার সুযোগ তাতে মেলে।

আজই বইমেলার শেষ দিন। প্রতীক্ষায় তো থাকবই আগামী বছর নতুন করে বইমেলার, কিন্তু শঙ্কাও একটা মনে এসে জুড়ে বসেছে, কাগজের বইয়ের দিন কি খুব দ্রুত শেষের দিকে এগোচ্ছে?