সময়টা উপভোগ করছেন তামিম

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৩০
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের একটা অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে। ব্যক্তিগত বা দলীয় সাফল্যের আনন্দটা এরা মাঠকর্মী, অফিস সহকারীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে পছন্দ করেন। সময়ে সময়ে আর্থিক পুরস্কার দিয়েই এদের পাশে থাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
 
এই অর্থ দেয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ক্রিকেটার সম্ভবত তামিম ইকবাল।
 
গতকালও পুরস্কার বিতরণী শেষে ড্রেসিংরুমে না ঢুকে গ্রাউন্ডসম্যানদের কাছে গেলেন; কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেন। এক গ্রাউন্ডসম্যান বলছিলেন, ‘তামিম ভাই, ভালো সময়টা সবার সঙ্গেই ভাগাভাগি করে উপভোগ করে।
 
তামিম ইকবালের সময়টা কতোটা ভালো যাচ্ছে, সে নিয়ে কথা বলাও এখন বাতুলতা।
 
টানা দুই সেঞ্চুরি করে সব সমালোচনার জবাব দিয়ে দিয়েছেন তিনি। যদিও ম্যাচ শেষে তামিম বলছিলেন, জবাব দেয়া কখনোই তার লক্ষ্য নয়। তিনি সমালোচনা ব্যাপারটাকে মেনে নিতেই চান। তবে সে সমালোচনা থেকে শুধু তার পরিবারকে বাইরে রাখার অনুরোধটা আবারও করলেন, ‘ক্রিকেট হচ্ছে একটা সার্কেলের মতো। ভালো খেলছেন, খারাপ খেলছেন, আরও ভালো খেলছেন, আরও খারাপ খেলছেন; চক্র চলতেই থাকবে। আর ভালো করলে যেমন হাতে তালি হয়, খারাপ করলেন সমালোচনা হবে। কিন্তু গত কয়েক মাসে আমার খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য আমার পরিবারের সদস্যদের অনেক খারাপ সময়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। মাঠে আমি ব্যাট করি, আমার পরিবার নয়। আমি আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে অনুরোধ করবো আবার খারাপ সময় এলে আমাকে যা বলার বলবেন; আমার পরিবারকে দয়া করে এর মধ্যে টানবেন না।’
 
সেই সঙ্গে তামিম অবশ্য বারবার করে মনে করিয়ে দিলেন, মানুষ হিসেবে তিনি সমালোচনার চেয়ে প্রশংসাতেই বেশি অনুপ্রাণিত হন। আর সেই অনুপ্রেরণাটা সবচেয়ে বেশি পেয়েছেন মাশরাফি ও মুশফিকের কাছ থেকে বলেও জানিয়ে দিলেন তামিম, ‘আমি এমন একজন মানুষ যে, আমাকে গুরুত্ব দেয়া হলে সব সময় ভালো থাকি। আমার দলের সদস্যরা সব সময় আমাকে বিশ্বাস করেছে। আমার পাশে তারা সব সময় ছিলো। আমার মনে হয়, আমার সাফল্যের জন্য ওদেরও বড় অবদান রয়েছে। যদি দুজনের নাম নিতে হয়, তাহলে মুশফিক ও মাশরাফির নাম বলবো। এটা মিডিয়াতেও আলোচনা করতে দ্বিধা নেই। আমাকে সব সময় বলেছে, বিশ্বাস করেছে বলেই এটা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।’  এই অনুপ্রেরণার কারণেই এমন দুটো ইনিংস খেলতে পরেছেন বলে তামিম বিশ্বাস করেন। প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিটাকে একটু এগিয়ে রেখেই তামিম বললেন, ‘প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। তবে পরেরটা বেশি উপভোগ করেছি। ব্যাটিং করতে নামার সময় মাথায় ছিলো ব্যাটিংটা উপভোগ করবো। শটস খেলবো। যখন ৮০ রানে ছিলাম তখন মনে হলো সেঞ্চুরি করা লাগবে। মুশফিক অনেকবার আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলো সেঞ্চুরি করতে হবে।’
 
তবে ব্যক্তিগত এসব পাওয়া বা না পাওয়া পেছনে ফেলে এবার সামনে চলতে চান তামিম। আর সেই চলার পথে একটা বড় অর্জন হয়ে গেলো পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ জয়, ‘দল হিসেবে এ জয় আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। ১৯৯৯ সালের পর ওদের সঙ্গে আমরা জিতিনি। শেষ কয়েকটি ম্যাচে বেশ ক্লোজ ছিলো। কিন্তু জয় পাইনি। এ সিরিজের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ফর্ম ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। কারণ এ সিরিজে ভালো না খেললে সবাই বলা শুরু করত আমরা পারি না।’