ব্যাংকে ডাকাতের হামলা, নিহত ৬

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৫, ০০:০৪
 
 
দিনে-দুপুরে ফিল্মি স্টাইলে একদল সশস্ত্র ডাকাত ঢাকার আশুলিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিঃ এর কাঠগড়া বাজার শাখায় হামলা চালিয়েছে। এতে ব্যাংকের ম্যানেজার, নিরাপত্তা প্রহরী, গ্রাহক এবং স্থানীয় ব্যাবসায়ীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এলাকাবাসীর গনপিটুনিতে নিহত হয়েছে এক ডাকাত সদস্য। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১ জন।
 
নিহতরা হলেন— ব্যাংক ম্যানেজার ওয়ালিউল্লাহ (৪৫), নিরাপত্তা প্রহরী বদরুল আলম (৩৮), বাজারের মুদি দোকানদার মনির হোসেন (৬০), দোকানদার জিল্লুর রহমান (৪০), ব্যাংকের গ্রাহক পলাশ (৩৮) এবং অজ্ঞাত নামা এক ডাকাত সদস্য।
 
এক ডাকাতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। পুড়িয়ে দিয়েছে ডাকাতি কাজে ব্যবহূত মোটরসাইকেলটি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতদের অবিস্ফোরিত পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করেছে। র্যাবের বোমা নিস্ক্রিয় করার দল পড়ে থাকা অবিস্ফোরিত বোমার স্থানসহ পুরো এলাকা ঘেরাও করে রেখেছে। র্যাব, পুলিশ, ডিবির উধ্বর্তন কর্মকর্তারা ব্যাংকের ঘটনাস্থল ও ব্যাংকের আশেপাশে অনুসন্ধান শুরু করেছে।
 
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার যোগে আসা ১০-১২ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার হাজী নজিমউদ্দিন সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজারে অবস্থান নেয়। প্রথমে দলের ৫-৭ জন গ্রাহক সেজে ব্যাংকে প্রবেশ করে। পরে তারা ওই ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে থাকা নিরাপত্তাকর্মী বদরুল আলমকে জিম্মি করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় ব্যাংক ম্যানেজারসহ অন্যান্য  কর্মকর্তা ও ব্যাংকে থাকা গ্রাহকরা এগিয়ে আসলে তাদের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে  নগদ আনুমানিক ৬ লাখ টাকার মতো লুট করে এবং ব্যাংকের ভোল্ট ভাঙার চেষ্টা করে। এ সময় ব্যাংক ম্যানেজার ওয়ালিউল্লাহ পুনরায় বাধা দিলে ডাকাতরা তাকে এলোপাতাড়ি গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ব্যাংকের ভেতরে ডাকাতির এ ঘটনাটি পাশ্ববর্তী মসজিদ থেকে মাইকে প্রচার করলে কাঠগড়া বাজারের দোকানদার, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ডাকাতদের প্রতিরোধে এগিয়ে আসলে ডাকাতরা ব্যাংকের ভেতরে গুলিবর্ষণ করতে করতে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে আসে। এতে ব্যাংকের গ্রাহক গ্লোরি ফ্যাশনের মালিক পলাশ (৪৮) ও নিরাপত্তা কর্মী বদরুল আলম নিহত হন। ডাকাত দল ব্যাংক থেকে বেরিয়ে এলাকাবাসীর মুখোমুখি পড়লে ডাকাত দল ফিল্মি স্টাইলে তাদের লক্ষ্য করে উপর্যপুরি বোমা ও গুলি ছুড়তে ছুড়তে মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ডাকাতদের গুলিতে মুুড়ি বিক্রেতা মনির হোসেন ও ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান মারা যায়। গুলি ও বোমার বিস্ফোরণে এলাকাবাসী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়ী ও বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা দিকবিদিক প্রাণভয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। এই ফাঁকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় কাঠগড়া বাজার এলাকার পাশ্ববর্তী আমতলা এলাকার জিরাবো-বিশমাইল সড়ক থেকে ডাকাত দলের দুই সদস্যকে আটক করে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের গণপিটুনিতে এক সদস্য ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
 
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডাকাতদলের অপর সদস্যকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের সাথে এলাকবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজিত এলাকাবাসী পুলিশের দুইটি গাড়ীতে ভাঙচুর চালায় ও ডাকাতদের মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ডাকাত দলের আহত ওই সদস্যকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করে।
 
ডাকাতির সময় ব্যাংকের ভিতরে থাকা গ্রাহক প্রত্যক্ষদর্শী রাশেদ সিকদার জানান, আমি দুইটার দিকে ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে আসি। ১০-১৫ মিনিট পরই অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক ব্যাংকের ভিতরে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীকে এলোপাতাড়িভাবে কোপাতে থাকে। তার আর্তচিত্কারে ব্যাংকের ম্যানেজার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে তাদের সবাইকে জিম্মি করে। এরপরই তারা ব্যাংকের ভিতরে এলোপাথাড়ী গুলি ছুড়ে ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
 
ব্যাংকের ক্যাশ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ক্যাশ কাউন্টার থেকে আনুমানিক  ৬ লাখ টাকা লুট করেছে তারা ও ভল্ট ভাঙার চেষ্টা চালায়।  এ সময় বাধা দিলে ডাকাতরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে।
 
এলাকাবাসী রবিন দেওয়ান বলেন, ডাকাতরা লুট করে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা কয়েকজন একটি প্রাইভেটকার নিয়ে ডাকাতদের পিছু নেয়। ঘটনাস্থল থেকে ৩’শ গজ দূরে ডাকাত দলের দুই সদস্যকে টাকাসহ আটক করতে সক্ষম হয়।
 
হাজী নাজিমউদ্দিন সুপার মার্কেট ও ব্যাংক ভবনের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বরকত জানান, আমাকে মোবাইল ফোনে একজন ব্যাংকে ডাকাতির  ঘটনাটি জানালে আমি সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাংকের পাশে মসজিদের ইমামকে মাইকে ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনাটি প্রচার করতে বলি। মসজিদের মাইকে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনাটি প্রচার করলে বাজারে ব্যবসায়ীরা ও এলাকাবাসী এগিয়ে আসে।
 
এ ব্যাপারে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিম জানান, ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত আহত এক ডাকাতকে আটক করা হয়েছে এবং ৫টি অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। প্রকৃত ঘটনা অচিরেই উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতার সম্ভব হবে।