তানোরে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। ভালো ফলনের আশায় কৃষকের চোখে-মুখে খুশি হলেও দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কৃষকরা জানান, বাজারে ধানের দাম তুলনামূলক খুবই কম। এ দামে ধান বিক্রি করলে উৎপাদন খরচ উঠবে না।
কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে তানোরে ১৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ১ হাজার হেক্টর কম। বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২২ মণ ফলন হয়চ্ছে। এ হিসেবে তানোরে প্রায় ১ লক্ষ মেট্রিক টন বোরো উৎপাদিত হবে।
চিমনা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে সরকার ২২ টাকা কেজি দামে ধান ও ৩২ টাকা কেজি দামে চাল ক্রয় করবে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ধান ক্রয় শুরু হবে। সরকার তানোর উপজেলা থেকে মাত্র তিন হাজার মেট্রিক টন ধান-চাল ক্রয় করবে। এ পরিমাণ ধান ১০ থেকে ১২ বড় কৃষক বিক্রি করলেই সরকারের চাহিদা পুরণ হবে। বাকি কৃষকদের লোকসানে খোলা বাজারে ধান বিক্রি করতে হবে।
জানা গেছে, দাদন ব্যবসায়ী ও ঋণের চাপে কৃষকরা উত্পাদিত ধান উঠান থেকেই ১৫ টাকা কেজি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কৃষকের উত্পাদন খরচ উঠছে না। ঋণের টাকা পরিশোধ হলেও কৃষকের সংসার খরচ মিটছে না।
কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার জানান, বোরোর ফলন আশানুরূপ হলেও দাম নিয়ে কৃষকরা শঙ্কিত। বর্তমান বাজারে ধান বিক্রি করে কোনো রকমে খরচ উঠলেও কৃষকের লাভে হচ্ছে না। তবে সরকার সঠিক কৃষকদের বাছাই করে ধান ক্রয় করলে কৃষকের কিছুটা লাভ হবে।
